নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় যেন ‘ভূতুরে বাড়ি’ মাসজুড়ে তালাবদ্ধ, জ্বলছে দিন-রাত লাইট!
দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী রেঞ্জ কর্মকর্তা কার্যালয়ের কার্যক্রম এখন কেবলই কাগজে-কলমে। দীর্ঘ মাসজুড়ে কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় এটি এখন যেন এক পরিত্যক্ত ‘ভূতুরে বাড়ি’তে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে অফিসের দরজার গ্রিলে উইপোকা মাটি দিয়ে বাসা বেঁধেছে এবং তালার ওপর মাকড়সা জাল বুনে বসবাস করছে। অথচ অফিসের বাইরের লাইটগুলো দিন-রাত জ্বলন্ত অবস্থায় থাকলেও তা অন-অফ করার মতো কোনো লোক সেখানে নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা নুরুল হোসাইনের আমল থেকে যে অব্যবস্থাপনা শুরু হয়েছিল, বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহাবুল আলমের সময়েও তা একইভাবে চলমান রয়েছে।
গত ২৬শে জুন (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে বাইশারী রেঞ্জ কর্মকর্তা কার্যালয় পরিদর্শনকালে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য ও চিত্র দেখা যায়। অফিসের চারপাশ সুনসান নীরব এবং প্রধান কক্ষসহ সবগুলো কক্ষে ঝুলছে তালা। অফিসের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই অফিস কোনদিন খোলে কিনা তা আমাদের জানা নেই। মাসের পর মাস ধরে এই অফিসগুলো এভাবেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখছি আমরা। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম কখনোই নিয়মিত অফিস করেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি মাঝেমধ্যে বাইশারী আসলেও অফিসে বসেন না। বরং এলাকার অবৈধ ও বৈধ করাত কল (স'মিল)গুলো পরিদর্শন করে নির্দিষ্ট 'হাদিয়া' বা মাসোহারা আদায় করেই আবার বাড়িতে ফিরে যান।
অফিস চলাকালীন সময়ে তাকে অফিসে না পেয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে আবারও ফোন করা হলে তিনি দায়সারাভাবে বলেন, আমার মোবাইলটা রিসিভ হচ্ছিল না, আমি এখন বাড়িতে আছি। আমার অফিসের স্টাফের নাম আপনাকে পরে জানাচ্ছি। এই বলেই তিনি তড়িঘড়ি করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এর আগে এই কার্যালয়ে কাসেম নামে একজন স্টাফ কর্মরত ছিলেন। তিনিও কখনো অফিস খুলতেন না, ঝাড়ু দিতেন না কিংবা লাইট অন-অফ করারও প্রয়োজন মনে করতেন না। এই চরম গাফিলতির কারণে তাকে শাস্তিস্বরূপ আলীকদমে বদলি (ট্রান্সফার) করা হয়েছিল। স্থানীয়রা আশা করেছিলেন, নতুন কর্মকর্তা এলে অফিসের অচলাবস্থা কাটবে এবং ভালো কিছু হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়েও আরও বেশি খারাপ ও শোচনীয় রূপ নিয়েছে।
সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের এমন বেহাল দশা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগামহীন অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তৈয়ব, আমির হোসেন এবং মোহাম্মদ হানিফ। তারা বলেন, সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করেও মাসের পর মাস অফিস বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষকে সেবা থেকে বঞ্চিত করা চরম অন্যায়। করাত কল থেকে 'হাদিয়া' বাণিজ্যের দিকে মনোযোগ না দিয়ে অবিলম্বে এই রেঞ্জ অফিস সচল করার এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি