পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মানবিকতার দৃষ্টান্ত, ইউএনও শেখ মো. রাসেল
দৈনিক বিজয় নিউজ পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
সরকারি চাকরিতে কঠোরতা আর বিনয় একসাথে খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল তার কাজ দিয়ে প্রমাণ করছেন, প্রশাসনও হতে পারে মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। গত কয়েক মাসে উপজেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সাংবাদিক, সবার মুখেই একই কথা, ইউএনও একজন মানবিক ও সদালাপী বিনয়ী মানুষ। মির্জাগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ইউএনও শেখ মো. রাসেল অফিসের চার দেয়ালের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বন্যা, নদী ভাঙ্গন, জলাবদ্ধতা কিংবা ভিজিএফ চাল বিতরণ, প্রতিটি সংকটে তাকে মাঠে দেখা গেছে। বয়স্ক, অসুস্থ ও দুস্থদের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে সহায়তার ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন। অফিসে আসা কোনো সেবাপ্রার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখার সংস্কৃতি তিনি ভেঙে দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, ইউএনও স্যারকে ফোন দিলে উনি নিজেই রিসিভ করেন। সমস্যার কথা শুনে সাথে সমাধানের কথা বলেন। এত বড় অফিসার হয়েও কথা বলেন খুব সাধারণ মানুষের মতো। তার সবচেয়ে বড় গুণ তার ব্যবহার। কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও তার কণ্ঠে থাকে সহানুভূতি। স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে গল্প করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে নারী ও তরুণদের কথা গুরুত্ব সহকারে শোনেন। সরকারি কাজের পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতা, বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তিনি নিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, ‘একজন ইউএনও যে এতটা আন্তরিক হতে পারেন তা রাসেল স্যারের কাছে না গেলে বোঝা যেত না। তিনি আইন মানেন, আবার মানুষকেও বোঝেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা, সব ক্ষেত্রে সমন্বয় করে কাজ করায় মির্জাগঞ্জে এখন দৃশ্যমান পরিবর্তন। তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণে সরকারি সেবা পেতে মানুষের ভোগান্তি অনেকটা কমেছে।’
মির্জাগঞ্জের মানুষ বিশ্বাস করে, শেখ মো. রাসেলের মতো কর্মকর্তারা আছেন বলেই রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। ক্ষমতার চেয়ারে বসেও যিনি মাটির মানুষের ভাষায় কথা বলেন, তিনিই তো প্রকৃত জনসেবক। মির্জাগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, তার এই মানবিক ও বিনয়ী নেতৃত্বের ধারা অব্যাহত থাকবে এবং উপজেলার উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আল মামুন