রামপাল, ময়নামতি, কুমিল্লা: সর্দার আবাসিক কল্যাণ সমিতির শক্ত হুশিয়ারি, অপরাধের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আর সহ্য করতে পারছে না অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
"মাদক আমাদের যুবসমাজকে শেষ করে দিচ্ছে, চাঁদাবাজ ও ইভটিজারদের উৎপাতে সাধারণ মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ!"—রামপাল, ময়নামতি, কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের বুকফাটা ক্ষোভ ও চরম হতাশা থেকে আয়োজিত হলো এক অভাবনীয় ও কঠোর প্রতিবাদী আলোচনা সভা। অপরাধ আর দুর্নীতির যাতাকলে পিষ্ট হয়ে এলাকাবাসীর সহ্যসীমা যখন একেবারে চরমে পৌঁছে গেছে এবং আর এক মুহূর্তও অপরাধ সহ্য করার মতো উপায় কারোর হাতে নেই, তখন সমাজ থেকে এর শেকড় উপড়ে ফেলতে প্রশাসন ও জনগণ একাট্টা হয়ে ঘোষণা করেছেন কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি। সর্দার আবাসিক কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এবং এলাকার অতিষ্ঠ ও সচেতন এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজনে রামপাল গ্রামে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অপরাধীদের ত্রাসের রাজত্ব গুঁড়িয়ে দিতে সভায় স্থানীয় তরুণ সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ অত্যন্ত জোরালো ও আক্রমণাত্মক কণ্ঠে অংশ নেন।
সভার মূল প্রতিপাদ্য ও কঠোর হুঁশিয়ারিসমূহ:
থানা পুলিশের কঠোর বার্তা: অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন ও বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, "রামপালসহ বুড়িচং ও ময়নামতির মাটিতে কোনো মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা ইভটিজারের ঠাঁই হবে না। এদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসন এখন থেকে আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কঠোর হুঁশিয়ারি: অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সর্দার আবাসিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোহাঃ হাবিবুর রহমান সর্দার। তিনি বলেন, "আমাদের সন্তানের জীবন এভাবে নষ্ট হতে দিতে পারি না। আজ থেকে রামপালের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দুর্ভেদ্য সামাজিক দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।" এছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব মাসুম অত্যন্ত জোরালো ও কঠোর কণ্ঠে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; এদের বিরুদ্ধে রামপালের যুবসমাজ ও প্রশাসন কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
সর্বস্তরের জনগণের বিস্ফোরণ: সভায় এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ সমাজ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদকের বিষাক্ত ছোবলে আজ প্রতিটি পরিবার ধ্বংসের মুখে। অতিষ্ঠ জনতা আর নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না। কমিটি গঠন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: সভা থেকে ঘোষণা করা হয়—যেখানেই মাদকের আড্ডা, চাঁদাবাজি বা ইভটিজিংয়ের চেষ্টা চলবে, সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে প্রশাসনের হাতে সোপর্দ করা হবে। এলাকাবাসী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধীদের সাথে কোনো আপস নয়। প্রশাসনের এই কঠোর ভূমিকা এবং রামপালের সাধারণ মানুষের এমন অপ্রতিরোধ্য জাগরণ অপরাধীদের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। এই সাহসী পদক্ষেপ বুড়িচং ও ময়নামতি এলাকাকে চিরতরে কলঙ্কমুক্ত করতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে সকলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ