দেবিদ্বারে বিষাক্ত মদপানে ২ জনের করুণ মৃত্যু, ঢামেকে লড়ছেন ৩ জন: ‘স্ট্রোকে মৃত্যু’র নাটক ফাঁস!
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
হৃদরোগ বা স্ট্রোকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; অতিরিক্ত ও বিষাক্ত মদপানেই প্রাণ গেছে দুই যুবকের! দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কুয়াশার চাদর সরিয়ে চাঞ্চল্যকর এই বিষাক্ত ট্র্যাজেডির খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুরো কুমিল্লা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দেবিদ্বার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধান্নারপাড় এলাকায় গোপন এই আড্ডায় ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি। মদপানের পরপরই একের পর এক ঢলে পড়েন ছয়জন তরুণ। নিহতদের একজন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মো. সালাউদ্দিন (৩২)। অপরজন হাপুড়খাড়া গ্রামের তরুণ বাসার খান (৩১)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যুসংগ্রাম হেরে যান তাঁরা।
মৃত্যুর মিছিল সেখানেই থামেনি—বর্তমানে ঢামেকের নিবিড় পরিচর্যায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন আরও তিনজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ধান্নারপাড়ের আতিক (৩৩), শাহীন শাহ (২৮), নাঈম (২৮) এবং এলাহাবাদের কাউছার। গোপন আড্ডা থেকে ঢামেক: যেভাবে ঘটল ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর রাতে ধান্নারপাড় এলাকার নাঈমের মামার বাড়িতে জটলা বাঁধেন তাঁরা। সেখানেই চলে বেপরোয়া মদপান। পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষক্রিয়ায় কোঁকাতে শুরু করেন সবাই। পরদিন সকালে সালাউদ্দিনের ঘর ভেতর থেকে বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। দরজা ভেঙে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুমিল্লা মেডিকেলে নেওয়া হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। ২৪ অক্টোবর ঢামেকের বিছানাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সালাউদ্দিন।
একই প্রক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে ২৫ অক্টোবর ঢামেকে মারা যান বাসার খান। ফেসবুকে ‘স্ট্রোক’ রটনা ও সত্যের প্রকাশ ঘটনার পরপরই বিষাক্ত মদের বিষয়টি লোকচক্ষুর অন্তরালে পাঠাতে চতুরতার আশ্রয় নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয় সালাউদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু সত্য লুকানো যায়নি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) একে একে বের হয়ে আসে আড়ালের আসল সত্য। কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসান তামিম বলেন, ‘পরিবার থেকে প্রথমে স্ট্রোকের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে আমরা জানতে পারি অতিরিক্ত মদপানই ছিল এই অকাল মৃত্যুর কারণ।’ দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘মাদকঘটিত বিষয় হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়েই হয়তো পরিবার তথ্যটি আড়াল করতে চেয়েছিল। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সামাজিক লজ্জা আর মিথ্যার ছায়ায় ঢেকে রাখা এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় এখন দেবিদ্বারের আনাচে-কানাচে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র সমালোচনা।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ