নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারীতে গর্ভের বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি!

নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারীতে  গর্ভের বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি!
ছবিঃ এম হাবিবুর রহমান রনি

দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাায় প্রাণীসম্পদ বিভাগের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই বিভিন্ন হাট-বাজারে গবাদি পশু জবাই, অবাধে প্রকাশ্যে গাবীন-গরু জবাই করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বাইশারীতে রবিবার ১১ই জানুয়ারি ভোররাতে আনুমানিক ৬টার দিকে, কসাই নুরুল ইসলাম,(৪৯) পিতাঃ সুলতান আহমদ কসাই নুরুল হাকিম (৫৬) পিতাঃ আলী হোসেন, কসাই মোঃ জোবায়ের (৪৮) পিতা আলী হোসেন। বাজারের কমিটির কাউকে না দেখিয়েই গর্ভে বাচ্চাসহ গরু জবাই করে। পরে গরু জবাই কৃত-স্থানে পাড়ে থাকা একটি মৃত গরুর বাচ্চা দেখতে পায় বাজারের কিছু ব্যবসায়ীরা, তারা গরুর বাচ্চাটি উঠিয়ে নিয়ে আসে তখন গরুর বাচ্চার গায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে কাটার চিহ্ন দেখতে পান। স্থানীয়রা ও মাংস ক্রয় করা ভুক্তভোগীরা, গরুর বাচ্চাটি দেখে, বাজার কমিটির সহ সাংবাদিকদের জানান।

সরেজমিনে নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী বাজারে দেখা গেছে গাবিন-গরু জবাই করে বাচ্চা ফেলে রাখা হয়েছে অনেক মোবাইলে ছবি তুলছে, কেউবা ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে এমন চিত্র। এ বিষয়ে কসাই নুরুল ইসলাম, কসাই নুরুল হাকিম, কসাই মোহাম্মদ জুবায়ের বিষয় টি অস্বীকার করেন এবং বলেন, আমরা গাই-গরু জবাই করেছি কিন্তু এই গরুর বাচ্চাটি আমাদের গরুর না, এবং গরু পরীক্ষার কোন ধরনের ছাড়পত্র দেখাতে পারেনি। সাধারণ জনগণ বাধ্য হয়ে অথবা নিয়মণ্ডকানুন না জেনেই কিনছেন সেসব মাংস। এতে বাড়ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি। গরুর মাংস কিনতে আসা মোঃ ইউনুস বলেন, মাংস কিনেছি। কিন্তু সুস্থ নাকি অসুস্থ তা জানি না, সাধারণ ক্রেতারা উচ্চমূল্য দিয়েও ভেজালমুক্ত মাংস কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীরা মানিক মিয়া বলেন, ভোররাতে সবার অগোচরে গরু-ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। ফলে আমরা কী সুস্থ নাকি অসুস্থ, পশুর মাংস টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছি তা কেউই আমরা জানি না। যানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৮থেকে ১০টি পশু জবাই হয়। প্রাণিসম্পদ কর্ত্বপক্ষকে জানিয়ে এসব পশু জবাই করার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করছেন না মাংস ব্যবসায়ীরা।

বাজার ব্যবসায়ীরা অনেকেই বলেন, প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় গাবীন-গরু, অসুস্থ, লুজার, রক্ত মাখানো ফ্রিজিং মাংস বিক্রিসহ প্রায়ই নানা অনিয়ম করে যাচ্ছে এইসব অসাধু কসাইরা। বাজার সভাপতি আবদুল করিম বান্টু বলেন, আমি অনেকবার বলেছি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোন ধরনের গরু, মহিষ, ছাগল, বেডা জবাই করা যাবেনা, কিন্তু আজকে যে গাবীন-গরুটি জবাই করা হয়েছে এ বিষয়ে জরিমানা সহ লিখিত স্টমে মোছলেখা নিয়েছি। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রশাসনিক তদারকির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের দাবি জানান। এলাকাবাসী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরবার অনেক বার অভিযোগ ও করেছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই বিষয়ে তদন্তর সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি