জামায়াতের ঘাঁটিতে ভোটের ঝড় : শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চায় পাবনার নাগরিক সমাজ
দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধি:
জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাবনা-৫ সদর আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে তার বিজয়কে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, উন্নয়ন ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে শিমুল বিশ্বাসকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। পাবনা-৫ আসনটি অতীতে জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের বর্ষীয়ান নেতা মাওলানা আব্দুস সুবহান। এর আগে পাকিস্তান আমলে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএন) ছিলেন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে এবং ১৯৯৬ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল এ আসনে বিজয়ী হন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার বিএনপি পুনরায় আসনটি পুনর্দখল করল। অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস ছাত্রজীবনে জাসদের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ হয়ে সর্বশেষ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে তাকে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘদিনের লোকসানি প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দাবি করেন তার সমর্থকরা।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রেও তিনি আলোচনায় রয়েছেন। পারিবারিক প্রায় সাড়ে চারশ’ বিঘা সম্পত্তি জনকল্যাণে দান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কাজ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অবদান রাখার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেন। জানা গেছে, বিদেশি অনুদানের অর্থায়নে তিনি পাবনা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ১১০টি মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি ১৩টি মন্দির ও ৪টি গির্জার সংস্কার এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপনসহ নানা জনহিতকর কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগের নজির হিসেবেও তার নাম উঠে আসে। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেও তিনি তা ত্যাগ করে জামায়াত নেতা মাওলানা সুবহানকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা যায়।
এবারের নির্বাচনে পাবনার পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াত এবং দুইটিতে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিভক্ত পাবনা জেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনী সাফল্য অর্জনে শিমুল বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, “পাবনা থেকে শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রী করা হলে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দলও উপকৃত হবে।” পাবনা নাগরিক কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, “তাকে মন্ত্রী করা হলে পাবনার মানুষের সম্মান বৃদ্ধি পাবে।” পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ফোরকান রেজা বিশ্বাস বাদশা বলেন, “সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও সমন্বয়কারী নেতৃত্ব হিসেবে তাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া দলের দায়িত্ব।” স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর পাবনা-৫ আসনে রাজনৈতিক পালাবদল নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জেলার এই দাবির প্রতি কতটা সাড়া দেয়।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান