জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ব্যতিক্রমধর্মী শপথ গ্রহণ : বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন, সমন্বয়ের আহ্বান

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ব্যতিক্রমধর্মী শপথ গ্রহণ : বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন, সমন্বয়ের আহ্বান
ছবিঃ এম এ খালেক খান

দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ পরবর্তী নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ১৭ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ আমলা ও সুশীল সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকলেও বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলসমূহের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়। শপথ অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও নীতি-দিক নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা উঠে আসে। তবে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশবাসীর প্রত্যাশা, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার ও ১১-দলীয় জামায়াত জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক যেন সংঘাতমুক্ত ও গঠনমূলক ধারায় অগ্রসর হয়।

শপথ অনুষ্ঠান পরবর্তীতে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ও আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস'র নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিক্ষাবিদ ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম শপথ গ্রহণকারী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি নতুন সরকারের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও গণমুখী প্রশাসন গঠনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি আরও আশা ব্যক্ত করেন, দেশনায়ক বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কৃচ্ছ্রতা, সরলতা ও সাম্যতার নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁর প্রয়াত পিতামাতার আদর্শ সমুন্নত রাখবেন। গণমুখী সেবা প্রদান, সংঘাত নিরসন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য জোরদার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবেন এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মূল আলোচনার বিষয় নতুন সরকার কীভাবে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সমঝোতার পথে এগোবে। দেশের নাগরিক সমাজ মনে করছে, জাতীয় স্বার্থে সব পক্ষের অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই হবে সময়ের দাবি। এ সময় টিএমএসএস'র নির্বাহী পরিচালকের একান্ত সচিব সার্বিক মোঃ ফেরদৌস রহমান তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান