পাবিপ্রবি থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) থেকেই উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।রবিবার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বলা হয়, বাইরে থেকে যারা আসেন তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তেমনটা অবগত থাকেন না। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো ও পরিবেশ বুঝে উঠতেই তাদের পুরোটা সময় চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ হলে তিনি আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত থাকবেন। যার কারণে উপাচার্য সহজেই দ্রুততার সঙ্গে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানান তারা।
এসময় ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ও জুলাই-৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান বলেন, "পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি ৬ জন উপাচার্য পেয়েছে, যাদের সবাই অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত। এতে প্রায়ই দেখা যায়, তারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেন। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী, যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছে, তারা নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। তাই আমরা মনে করি, আমাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিলে এসব সমস্যার সমাধান হতে পারে।"
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: ফজলুল হক বলেন, "চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই। তার পদত্যাগের ফলে অনেক শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট তুলতে পারছে না এবং অনুমোদনের অভাবে সেমিস্টারের ফলাফলও প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি ফুল ফান্ডে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারছে না। এছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনও আটকে আছে। তাই আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেবেন।"
অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর খালেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, "এখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আর ছোট বা নতুন বলা যায় না; প্রায় ১৮ বছর ধরে এটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০–৩৫ জন গ্রেড-১ অধ্যাপক হয়েছেন, যারা উপাচার্য হওয়ার যোগ্য। বাইরের কোনো ভিসি আমাদের সমস্যাগুলো আমাদের মতো করে বুঝতে পারেন না এবং অনেক সময় ভুলভাবে পরিচালিতও হন। তারা কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করে চলে যান। তাই আমরা মনে করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনটি হচ্ছে, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে না হওয়াটা আমরা বৈষম্য হিসেবে দেখি।"
জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: নামজুল ইসলাম বলেন," বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময় পার হলেও বিভিন্ন সেক্টরে কিছু খুটিনাটি সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। এসব সমস্যা আমাদের কাছে প্রকট হলেও বাইরে থেকে আসা প্রশাসনের কাছে ততটা গুরুত্ব পায় না। ফলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু সমস্যা সমাধান হলেও অনেক বিষয় থেকে যায়, যার ভুক্তভোগী আমরা। বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক গ্রেড-১, ২ ও ৩ অধ্যাপক আছেন যারা প্রশাসক হওয়ার যোগ্য। তাই দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে আমাদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাই।"
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ভাস্কর চন্দ্র রায়