নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারীতে সরকারী খাস বনভূমি পাহাড় নদী নালা ধ্বংস বালি উত্তোলন উদ্ধারে তৎপরতা চলছে!

নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারীতে সরকারী খাস বনভূমি পাহাড় নদী নালা ধ্বংস বালি উত্তোলন উদ্ধারে তৎপরতা চলছে!
ছবিঃ এম হাবিবুর রহমান রনি

দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী অপরূপ সৌন্দর্য্য একটি এলাকা। পাহাড় পর্বত ঘেরা এই এলাকাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে এক লীলাভূমি বলা চলে। কয়েক যুগ থেকে কয়েক শত কিলোমিটার এই এলাকার নান্দনিক সব সৌন্দর্য্য ও প্রকৃতি ধ্বংস করেছে বিশাল শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভূমিদুস্য বাহিনী । বাইশারীতে সরকারী খাস বনভূমি ভূমিদুস্যদের নাগাল থেকে বের করে আনতে হবে। বাইশারীতে শত-শত একর সরকারী খাস বনভূমি ভূমিদুস্যরা জোর-জবরদস্তি করে দখলে রেখেছে। সরকারী এসব বনভূমি দখলে রাখতে ভূমিদুস্যরা বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে আসছে। এসবের পেছনে কতিপয় প্রভাবশালী মহল ইন্ধন দিয়ে যায়। জমি দখল করে সেখানে সাইনবোর্ড বসানো হয়। স্টাফ ঘর তৈরি করা হয়। ২৫ একর করে রাবার বাগান প্লট তৈরি করা হয়। নানাভাবে কৌশল করে ম্যাপ তৈরি করে এসব সরকারী খাস বনভূমি অপরাপর লোকজনের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়।

ভূমিদুস্য সিন্ডিকেট তারা খুবই শক্তিশালী। তাদের আছে অর্থ, পেশিশক্তি এবং অস্ত্র। তারা যুব সমাজের একটি অংশকে ব্যবহার করে। প্রচুর অর্থ খরচ করে দুই হাতে টাকা খরচ করে সরকারী খাস বনভূমি দখলে রাখে। স্বশস্ত্র কর্মী বাহিনী গড়ে তুলে এসব জমির আধিপত্য রক্ষা করে। তাদের শক্তির হাত খুবই লম্বা। যেকোনো ধরনের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকে। কয়েকটি ভূমিদুস্য গ্রুপ একত্রিত হয়ে শত-শত একর সরকারী বনভূমি দখলে রেখেছে। ভূমিদুস্য এসব সিন্ডিকেটরা সরকারী খাস জমি এবং পাহাড় পর্বত ধ্বংস করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে আসছে স্বৈরাচার সরকার আমল থেকে। অতীতের কোনো সরকার প্রশাসন এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর উচ্ছেদ অভিযান করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রশাসন প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার এবার রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসক ও স্থানীয় জনগণ। সরকারী খাস বনভূমি পাহাড় বালি উত্তোলন রক্ষা করবে। পরিবেশবান্ধব পাহাড় ও বনভূমি যেভাবে ছিল সেভাবে রাখার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন প্রশাসক।

ইচ্ছামতো সরকারী খাস বনভূমি পাহাড় বালি উত্তোলন পর্বত নদীনালা ধ্বংস করা যাবে না। নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী অপরূপ সৌন্দর্য্য যেভাবে আছে সেভাবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাইশারী বনভূমি প্রতিরোধ কমিটি স্থানীয় জনগণ। ফলে বাইশারীর সব শ্রেণির মানুষ তাদেরকে সমর্থন জানিয়েছে। স্বৈরাচার সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামীলীগপন্ত্রী এই এলাকায় গড়ে উঠছিল দাগি চোর ডাকাত সন্ত্রাসীদের আস্থানা। এখানে দিনে রাতে তাদের নিজস্ব পাহারাদার চেকপোস্ট ছিল। অপরচিত লোকজন সেখানে যাতায়াত করতে বেগ পেতে হতো। অতীতের কোনো সরকার স্থানীয় প্রশাসন সাহসিকতার সঙ্গে তাদের মোকাবিলা করতে পারেনি। অদৃশ্য ইশারায় যেকোনো ধরনের প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা নিমিষেই বন্ধ হয়ে যেত। এবারও সে আশঙ্কা অনেকেই করছিল। তবে আশার কথা হলো এবারের প্রশাসন আন্তরিকভাবে সরকারী খাস বনভূমি পাহাড় নদী নালা ধ্বংস বালি উত্তোলন উদ্ধারের প্রক্রিয়া আছে এবং অব্যাহত থাকবে।

এলাকার গাছ বাশঁ কেটে খাওয়া মুরুং, মগ, চাক, স্থানীয় সাধারণ জনগণ জানান, সরকারী খাস বনভূমি কেটে রাবার বাগান করে ভূমিদুস্যরা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। তারা শাসক দলের পদ-পদবী ব্যবহার করে এসব অপকর্ম ও ভূমি দখল করে রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর এসব দেখেও কোনো আইনানুগ উদ্যোগ গ্রহণ করছেনা। জানতে চাইলে ফরেস্টার কাশেম বলেন, রেঞ্জার স্যার আজ আসবে কাল আসবে, স্যার নাই তাই অফিস বন্ধ। আমি গেট বসে থেকে গাছ,বাঁশ এর টাকা তুলি ডেইলি যা পাই তা দিয়ে আমার চলে। বাইশারী ফরেস্ট রেঞ্জার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল হোসাইনের মুঠোফোনে শতভাগ চেষ্টা করেও কোন ভাবে তাকে মোবাইল রিসিভ না করাতে। বাইশারী ফরেস্ট অফিসে গেলে জানা যায় তিনি নিয়মিত অফিস করেন না, তাই তার বক্তৃতা নেয়া সম্ভব হয়নি।

হেডম্যান বাবু মংথোইলা মার্মা বলেন, এক কথায় সব ধরনের সরকারী খাস বনভূমি ভূমিদুস্যর হাত থেকে উদ্ধার করতে হবে। প্রয়োজনে নিঃস্ব অসহায় সম্বলহীনদের সচ্ছতার মাধ্যমে বণ্টন করা যেতে পারে। কোনো অবস্থায় ভূমিদুস্য এবং রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের সরকারী সব ধরনের খাস বনভূমি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করাসহ জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নতুন করে কোন ধরনের সরকারী বনভূমি আবাদ করতে দেয়া যাবে না, যদি কেউ জোরপূর্বক করতে চাই তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে বলছি আসুন আমরা একসাথে কাজ করি এবং আমাদের মধ্যে ভূমিদস্যু যারা রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করি এবং একটি সুন্দর ভূমিদস্যহীন বাইশারী গড়ি। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে অনেক পাহাড় পর্বত সরকারী খাস বনভূমি প্রশাসনের লোকজন উদ্বার করতে সক্ষম হয়েছে। ভূমিদুস্যর গড ফাদার ইন্ধনদাতা সহযোগী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ও অবৈধভাবে সরকারী বনভূমি পাহাড় নদী নালা ধ্বংস বালি উত্তোলন দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত আছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি