এই মাছ আমি সেই দিন খাবো
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবনা প্রতিনিধিঃ
জনৈক পিতার সংসারে অনেক গুলো কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তার প্রভাব প্রতিপত্তি ছিলো এলাকা জুড়ে,তার পুত্র বাসনা অপূর্ণ থাকলেও খোদা তায়ালার কাছে অনেক কান্নাকাটি করে শেষ বয়সে একটি পুত্র সন্তান লাভ করেন। তার ছেলের সংসার মুটামুটি চলে নাতি-পুত নিয়ে। তিনি প্রভাবশালী বংশের লোকও বটে।তিনি শেষ বয়সে শতবর্ষী হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি হাটা চলাফেরা করতে পারতেন। তিনি শেষ বয়সে কাঁচা কঞ্চি দিয়ে ডালি তৈরী করে বিক্রি করে সংসারে বাড়তি সচ্ছলতা যোগ করতে মাঝে মধ্যে কাজ করতেন। তিনি একদিন হালিমপুর হাটে গিয়ে ডালি বিক্রি করে প্রাপ্য টাকা ছেলের হাতে তুলে দেন। ছেলেকে মাছ কিনতে বললে ছেলে পিতাকে সঙ্গে নিয়ে মাছ বাজারে যান। পাবনা জেলার অন্যতম বিল ডিকশি। ডিকশি বিলের মিঠাপানির মাছ বড়ি সুস্বাদু। তিনি ডিকশি বিলের একটি নওলা মাছ(রুই মাছের ছোট সাইজ) পছন্দ করেন ছেলেকে কিনতে বলেন।কিন্তু ছেলে মাছ কিনতে গিয়ে দরদামে না মেটায় সেই মাছটি আর কেনেন নি। ছেলে এক ভাগা ছোট মাছ কিনে কাঁচা বাজার শেষ করে বাড়ী অভিমুখে ফিরতে হালিমপুর হাট ত্যাগে উদ্যত হন। ছেলের সামনে পড়ে তার সমন্ধি (ব্রাদার ইন ল), তখন তড়িৎ মাছ বাজারে গিয়ে ছেলে তার বাপের পছন্দ কৃত নওলা মাছটি বিক্রেতার চাহিদামত দামে কিনে বাড়ী ফেরেন।
যথারীতি রাতের রান্না শেষে ছেলে ও তার বাবা এবং ছেলের (ব্রাদার ইন ল) সমন্ধি এক সাথে খেতে বসেন। রাতের খাবার গ্রহণ চলছে, তরকারী হিসেবে এক পদের ভর্তা, ছোট মাছ ও নওলা মাছ। ছেলের বৃদ্ধ পিতা ভর্তা দিয়ে কয়েক গাল ভাত খেয়ে ছোট মাছ দিয়ে ভাত খাচ্ছেন আর বলতেছেন আজকের ছোট মাছের তরকারি খুবই সুস্বাদু ও মজাদার হয়েছে কিন্তু নওলা মাছের বড় পেটিটা তার সামনে বাটিতে সংরক্ষিত রয়েছে সেটা তিনি দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছেন। বারংবার এই কথা বলে চলেছেন যে, ছোট মাছের তরকারি অনেক সুস্বাদ হয়েছে ও কয়েক চামচ ভাত নিয়ে খাবার খাওয়া শেষ করে পাতে পানি উদ্যত হতেই পাশে বসে বৃদ্ধের ছেলে বলছেন বাবা তুমি মাছের তরকারি টা নিলে না? বৃদ্ধের নিরুত্তর, তারপর আরেক পাশ থেকে ছেলের সমন্ধি বলছে যে, তাওই সাহেব মাছের তরকারি নিলেন না, মাছের তরকারিটা নেন।ডিকশি বিলের মাছ, খুবই সুস্বাদু রান্না হয়েছে। তবুও বৃদ্ধ নিরুত্তর!
আবারও বৃদ্ধের আত্মীয় বললেন, তাওই সাহেব মাছের তরকারি নিলেন না যে, নেন। তখনও বৃদ্ধ কিছুই বললেন না। জোর করে বৃদ্ধের থালায় তরকারি ঢেলে দিতে যখন আত্মীয় উদ্যত হয়েছেন! তখন বৃদ্ধ প্রতিবাদী কন্ঠে বলে উঠলেন এই মাছ আমি কোন দিনও খাবো না! তখন আত্মীয় বৃদ্ধকে বললেন কেনো তাওই সাহেব? তখন বৃদ্ধ বললেন এই মাছ আমি সেই খেতে পারবো! আমি যেদিন আমার ছেলের সমন্ধি হতে পারবো?
এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ
কবি-কলামিস্ট, সাংবাদিক-গীতিকার,
পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী,
চাটমোহর, পাবনা।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এসএম এম আকাশ