নারীদের ধ্বংস করা হচ্ছে, রাজনীতি করব না: ফেসবুক লাইভে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও নারী বৈষম্যের প্রতিবাদ; "ফাতেমা খানম লিজা"
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম কলেজের স্নাতক শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাবেক মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজা ১ আগস্ট ফেসবুক লাইভে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নারী বৈষম্য, অপমান ও "নোংরামি"কে দায়ী করেছে
নারীদের টার্গেট করা: ফাতেমা অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী পুরুষ সহকর্মীরাই নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে "বাজে বয়ান" তৈরি করছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাচ্ছেন এবং "নোংরামি" ছড়াচ্ছেন। বিশেষ করে, খান তালাত মাহমুদ রাফি, রাসেল আহমেদ, রিজাউর রহমান প্রমুখ নেতাদের ভূমিকা সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, "যে ভাইদের আমরা জীবন বাঁচিয়েছি, সেই ভাইয়েরাই আজ নারীদের ধ্বংস করতে চাইছে"।
নেতৃত্বের ব্যর্থতা: কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের "লিয়াজোঁ" করে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। এর ফলে চট্টগ্রামে নারী নেত্রীরা একে একে সংগঠন ছাড়তে বাধ্য হন
ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের পরিবর্তে অন্তর্দ্বন্দ্ব: "আমাদের লড়াই করার কথা ছিল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে। কিন্তু লড়াইটা করতে হচ্ছে নিজেদের মানুষের সঙ্গে"
১ আগস্ট: ১৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের ফেসবুক লাইভে তিনি প্রাথমিক ঘোষণা দেন। ২ আগস্ট: ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে "রাজনৈতিক পথ থেকে সরে দাঁড়ানোর" সিদ্ধান্ত জানান। এখানে তিনি উল্লেখ করেন: "চট্টগ্রামে কোনো নারী রাজনীতির মাঠে এলে তাকে নিজ দলের মানুষদের থেকেই সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হবে। এই অভিজ্ঞতা আমি বহুবার অনুভব করেছি"।
ফাতেমার পদত্যাগের মাত্র ৩ দিন আগে (২৭ জুলাই) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা দেশের স্থানীয় কমিটি স্থগিত করে। কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ স্বীকার করেন যে নেতারা "চাঁদাবাজি, দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন"।
সংগঠনের চট্টগ্রাম শাখার সাবেক আহ্বায়ক আরিফ মইনুদ্দিন ফাতেমার অভিযোগকে "পদ না পাওয়ার ক্ষোভ" বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিপূর্বে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল।
ফাতেমার সতর্কবার্তা: তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে চট্টগ্রামে নারী রাজনীতিকদের জন্য বৈরী পরিবেশ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে: "একজন নারী যখন সব বাধা উপেক্ষা করে রাজনীতিতে আসে, তখন দলীয় ভাইয়েরাই তাকে হেয় করলে তার পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব। এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক" ।
ফাতেমার পদত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বাংলাদেশের প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনগুলোর অভ্যন্তরীণ লৈঙ্গিক সহিংসতা ও নেতৃত্বের সংকটের চিত্র উন্মোচন করে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর অভিযোগের প্রতি কোনো যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ আরও সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ