মির্জাগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টের বেড়িবাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্থানীয় বাসিন্দারা

মির্জাগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টের বেড়িবাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্থানীয় বাসিন্দারা
ছবি: মোঃ আল মামুন

দৈনিক বিজয় নিউজ মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ

আকাশে মেঘ আর নদীর পানির উচ্চতা বাড়লেই আতঙ্ক বাড়ে পাররা নদীবেষ্টিত মির্জাগঞ্জ উপজেলাসহ পটুয়াখালী-বরগুন্য উপকূল জুড়ে। সেই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিপদ সংকেত আতঙ্কের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। অমাবস্যা পূর্ণিমার জো'তে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি কিংবা বঙ্গোপসাগরে কোনো নিম্নচাপ সৃষ্টি হলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, মির্জাগঞ্জ উপজেলার বেড়ির াধ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার মানুষ। কারণ প্রায় প্রতি বছরই মৌসুমী জো'র প্রভাবে এবং জলোচ্ছ্বাসের ফলে বেড়িবাঁধ ভেঙে অনেকগুল্যে গ্রাম প্লাবিত হয়। জানা যায়, এই উপজেলার মোট ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নই পায়রা নসীবেষ্টিত। আয় এসব ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধ কালার অবস্থা খুবই নাজুক ও নড়বড়ে। নেই কোনো ব্রোক ব্যবস্থা। সামান্য স্রোতেই যেকোনো সময় ভেদে যেতে পারে এই অরক্ষিত বেড়িবাধ। পায়রায় যেকোনো মুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে বসতভিটাসহ ফসলি জমি। অন্যদিকে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পায়রার বিরামহীন ভাঙন শুরু হয়। তাই বর্ষা মৌসুম এলেই ভয় আর আতঙ্কে দিন কাটে এখানকার মানুষদের। কখন যেন পায়রার গ্রাসে শেষ সহায় সম্বলটুকু নদীতে চলে যায়। এদিকে হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া বাজার ও গোলখালী লুইসগেট। এগুলো যেকোনো জলোচ্ছ্বাস কিংবা বর্ষা মৌসুমে

পূর্ণিমার জো'তে যেকোনো সময় স্রোতের তোপে দুমড়ে-মুচড়ে বিলিন হতে পারে পায়রার বুকে। এভাবে প্রতি বছরই বঙ্গোপসাগরের লঘু চাপের সৃষ্টি হলে চরম আয়ন্ত ও উৎকণ্ঠায় এবং বর্ষা মৌসুমে দুর্বিষহ জীবন পার করতে হয় পায়রা পাড়ের বসতিদের। আর বর্ষা শেষে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাবে নামে মাত্র মাটি দিয়ে সংস্কারের নামে বরাদ্দ লুটপাট করে সংশ্লিষ্টয়া- এমনই মন্তব্য করেন, বেড়িবাধ এলাকায় বসবাসকারীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর বিরামহীন ভাঙনের মুখে দিনে দিনে ছোট হচ্ছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র। পায়রার তীব্র স্রোতে উপজেলার পিপঁড়াখালী শাহজাহান হাওলাদার বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাধটি অরক্ষিত হওয়ায় বসতবাড়িসহ কৃষিজমি ঋতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়াও প্রতিনিয়তই ভাঙনের কবলে নদীর গর্ভে বিলিয়ে যাচ্ছে উপজেলার গোলাখালী, চরখালী, মোহিন্দাবাদ, কাকড়াবুনিয়া, ভরাং, রাম পুর, সন্ত্রোসপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ। এরইমধ্যে পায়রা নদী গিলে নিয়েছে সুন্দ্রা কালিকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুন্দ্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামপুর দাখিল মাদ্রাসা। আর এলমন্ত্র এলাকার বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থ্য খুবই খারাপ। বর্ষা এলেই ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে গ্লাবিন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ওই সমস্ত এলাকার ফদিল জমি ও ঘরবাড়ির। এমনই দুরবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে যে, জলোচ্ছ্বাস তো দূরের কথা পায়য়ার দুই একটা ঢেউয়ের তোরেই যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। স্থানীয় আলী আকবর, ইমরান ও ঘরবাড়ির। বেড়িবাঁধগুলোর

খালেকসহ উপজেলার বিভিন্ন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বাসিন্দারা বলেন, মজবুত বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিনিয়ত ভাঙতে ভাঙতে আমাদের যা ছিল সবই নদীকে গেছে। পাছরা নদীর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয় আমাদের। এখন বেড়িবাদের যে অবস্থা তা বৃষ্টি আসলে জোয়ারের পানিতেই ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। এখন মাথাগোঁজার মতো ঠাই টুকুও থাকবে না। প্রতিবছয় গুনি ব্লোকসহ টেকসই বেড়িবাধ হবে কিন্তু বাস্তবে দেখা নেই। আমাদের একটাই দাবি এান নয়, আমরা ব্লোকসহ টেকসই বেড়িবাঁধ চাই। মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন, এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙচূড়া ও দুর্বল অবস্থা। বড় ধরনের কোনো বন্যা বা জলোচ্ছ্বাস হলে গরীব মানুষের বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ যাতে এই বাঁধগুলো শক্ত করে তৈরি করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, মির্জাগঞ্জে উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে যায়, জনগণের ভোগান্তি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করা হয়। ব্লক দিয়ে বেড়িব  াধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাকিব বলেন, নিম্নচাপের কারণে যেসব এলাকা বেড়িবাধ ভে গেছে সেসব বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। স্থায়ী বেড়িবাধের জন্য সমীক্ষা প্রকল্প পাশ হয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আল মামুন