বরিশালে স্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার, চিকিৎসকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

বরিশালে স্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার, চিকিৎসকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা মো. সুহান (২৩)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানালেও, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নগরের ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ে নগর ভবনের সামনে থেকে সুহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, ফেসবুকে হাতে দাসহ একটি ছবি পোস্ট করার অভিযোগে সুহানকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম একই সাথে জানান, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবামেক) এক চিকিৎসকে মারধরের ঘটনায় সুহানের সম্পৃক্ততা তদন্তাধীন রয়েছে।

এ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছে স্বাস্থ্য সংস্কার আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার দুপুরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে দাবি করেন, কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও সুহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন।

চিকিৎসকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
শেবামেক হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা যে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা তিনটায় তারা কর্মস্থলে ফিরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধি মো. নাজমুল হুদা। পাশাপাশি, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও বুধবার থেকে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীরের কাছ থেকে নিরাপত্তা ও বিষয়টির তদন্ত সম্পর্কে আশ্বাস পাওয়ার পরেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।

গত রোববার দুপুরে শেবামেক হাসপাতালের ফটকে বিক্ষোভরত অবস্থায় মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসা কর্মকর্তার ওপর হামলা হয়। আন্দোলনকারীরা এই হামলায় জড়িত—এমন অভিযোগ তুলে সোমবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

একই দাবিতে সোমবার হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন চিকিৎসক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় সোমবার রাতে হাসপাতালের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় স্বাস্থ্য খাত সংস্কার আন্দোলনের নেতা মহিউদ্দিন রনিসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও আন্দোলনের দাবি
শেবামেকের শিক্ষার্থী জুবায়ের আল মাহমুদ বলেন, "স্বাস্থ্য সংস্কার আন্দোলনের নামে কতিপয় সন্ত্রাসী চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ এমনকি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে। সড়কে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেওয়া হচ্ছে, গালিগালাজ করা হচ্ছে।" এ কারণেই তারা ক্লাস বর্জন করেছিলেন বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য সংস্কার আন্দোলনকারীরা মূলত তিন দফা দাবি নিয়ে তাদের কর্মসূচি শুরু করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধ, দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ এবং স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন।  স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে তদন্ত করে কার্যকর সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন। পরবর্তীতে তাদের ওপর হামলার ঘটনায় দাবির তালিকায় দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিও যুক্ত হয়।

এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৮ আগস্ট থেকে ছয় দিনে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক সাড়ে ২৯ ঘণ্টা অবরোধ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আশ্বাস সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ