ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত জোটের বিশাল জয় ডাকসু নির্বাচনে
দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনে প্রধান পদগুলোসহ সম্পাদক পদগুলোর বেশিরভাগই জয়ী হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থীরা। ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও ফলাফল ঘোষণার পর বেশ কয়েকজন প্রার্থী কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান ও ডাকসু বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রধান পদগুলোর ফলাফল:
ভিপি (সহ-সভাপতি): ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থী মো. আবু সাদিক কায়েম ১৪,০৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫,৭০৮ ভোট।
জিএস (সাধারণ সম্পাদক): ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ ১০,৭৯৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। ছাত্রদলের শেখ তানভীর বারি হামিম পেয়েছেন ৫,২৮৩ ভোট।
এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক): শিবিরের প্রার্থী মুহা. মহিউদ্দিন খান ১১,৭৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ছাত্রদলের তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫,০৬৪ ভোট।
সম্পাদক পদে বিজয়: ১২টি সম্পাদক পদ中的 ৯টিতে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির-সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা। ফাতেমা তাসনিম জুমা (মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন), ইকবাল হায়দার (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), খান জসিম (আন্তর্জাতিক) সহ একাধিক পদে তারা জয়ী হয়েছেন। তিনটি পদে (সমাজসেবা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, এবং গবেষণা ও প্রকাশনা) স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
কারচুপির অভিযোগ ও প্রত্যাখ্যান:
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পরপরই এটি প্রত্যাখ্যান করেন পরাজিত কয়েকজন প্রার্থী।
-
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ফেসবুকে এক পোস্টে নির্বাচনকে "পরিকল্পিত প্রহসন" আখ্যা দিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।
-
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা "সম্পূর্ণ নির্লজ্জ কারচুপির নির্বাচন" বলে আখ্যায়িত করে ডাকসু বর্জনের ঘোষণা দেন।
-
ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম ভোট গণনায় "মেশিনের ত্রুটি, জালিয়াতি ও কারচুপি"র অভিযোগ তোলেন।
ভোট গণনার সময়ই টিএসসি ও অন্যান্য কেন্দ্রের সামনে ছাত্রদল ও কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ‘ভোট চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শান্তিপূর্ণ ভোট ও পটভূমি:
এর বিপরীতে, ভোটগ্রহণের দিনটি ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। প্রায় ৭৮% ভোট পড়ার কথা জানানো হয়। ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কেননা আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা কার্যত নিষিদ্ধ ছিল। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর, সংগঠনটি প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। প্রকাশ্যে ফিরে আসার মাত্র এক বছরের মাথায় তারা ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হলো।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "এই ডাকসুর মাধ্যমে আমরা একটা সুন্দর একটা মডেল সেট করতে পেরেছি। যেটা বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় বড় কলেজ আমাদেরকে অনুসরণ করবে আমরা আশা রাখি।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ই