আরাধ্য ভালোবাসা - (এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ)
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবনা প্রতিনিধিঃ
মানুষ সহসাই ভালোবাসার প্রতি আসক্ত হতে ভালোবাসে পছন্দ করে। অবচেতন মনের গহীনে কখন যে কে এসে বাসা বেঁধে আসন পাকাপোক্ত করে ফেলে, কেউ কি কখন তা জানে! জানেনা বৈকি! তবে মনের চাওয়া পাওয়া পূরণে উদাসী হতেও পিছপা হয়না মন! শাহীন শৈশব থেকেই ভাবুক মনের অধিকারী। সে পেশাগত জীবনে পড়ালেখা শেষ করে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় সুনামের সাথে কর্মরত এবং একটি কলেজে শিক্ষকতা করে। আনমনে বসে নিঃসংকোচে নিঃরব বিষন্ন মনে ভাবতে বড়ই ভালো লাগে তার। ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে মাঝে মধ্যে কলম-কাগজের মিতালীতে মিলন ঘটিয়ে কিছু লিখে ফেলে।হয়তো কবিতা,গল্প, গানের আদলে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা বা ম্যাগাজিন, জার্নালে সে গুলো পাঠায় যাতে করে তার লেখা ছাপা হয় দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের ম্যাগাজিন বা পত্রিকাতে। দেশের বহুল পঠিত ও পাঠক নন্দিত স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন মনোজগত এ লেখা ছাপা হয় যথারীতি।
২০১৭ সালের কথা অনেকেই কল করে শাহীনকে নামে বা ছদ্মনামে তার লেখা কবিতা ভালো লাগার অনুভূতি শেয়ার করে। অনেকের মধ্যে একজন শাহীনকে কল করে কিছু না বলে মুচকি হাসি হেসে কল কেটে দেয়। এভাবে চলতে থাকে কয়েকদিন। শাহীন কল ব্যাক করলেও কোন রেসপন্স মেলেনা। চলতে থাকে এভাবেই আরো কিছু দিন। হঠাৎই শাহীনের ফোনের বিপরীত পাশ থেকে ভেসে আসে একটি বাক্য! কবি নামের সাথে ডাক্তার নাম মানায় না! কৌতুহল নিবৃত্ত করতে রিকোয়েস্ট করে কিছুটা সময় কথা বলার জন্য অপর পাশে থাকা নারী কন্ঠের মানুষটিকে রাজি করায়। কিছু সময় কথা হয়, এক পর্যায়ে জানতে পারে অপর পাশে থাকা নারীর নাম মানিষা খোন্দকার। আদি বাসা কুষ্টিয়া, পিতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলেটে হওয়ার কারনে পরিবারের সাথে অবস্থান ও পড়ালেখা সিলেটেই ।
কথা হতে থাকে রোজ লুকিয়ে লুকিয়ে, পারিবারিক পরিস্থিতি-অবস্থান বৈরী হওয়ার কারনে। এভাবে কয়েক মাস চলতে থাকে। মানিষা খোন্দকার শাহীনকে কুষ্টিয়ায় দেখা করতে বললে, শাহীন পাবনা থেকে নিজের লেখা "চাইযে তোমারি হতে" কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে রেডি হয়ে সকাল সকাল আশির্বাদ কোচে চেপে কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছায়।মানিষা খোন্দকারদের বাসা কুষ্টিয়া শহরের বটতৈল। বাসা থেকে মানিষা খোন্দকার তার পিতার সাথে সিলেট যাওয়ার সময় বাস কাউন্টারে বা তার দুলা ভাই এর ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানে সাক্ষাৎ করবে। তার পিতা ও দুলা ভাই এর সাক্ষাতে খোলাখুলি প্রস্তাবের ভিত্তিতে কথা বলবে। কুষ্টিয়া সদর থানা মসজিদে সালাতুল জোহর আদায় করে দুলাভাই এর দোকানে গিয়ে সালাম পরিচয় দিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করে শাহীন তার আরাধ্য ভালোবাসা মানিষা খোন্দকারের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেনি তার দুলা ভাই এর কারনে। তার দুলা ভাই শাহীন কে দেখে নিজের ছোট বোন সম শ্যালিকার কথা না ভেবে ছোট বোনের জন্য শাহীনকে পছন্দ করে।
শাহীন বুঝতে পারে ঘটার কথা কি, আর ঘটে গেলো কি! স্বপ্ন, আশা ভেঙ্গে গেলো কষ্টে বুক ভেঙ্গে হতাশা ও বিষন্নতার চাদরে নিজেকে জড়িয়ে ফিরে এলো সে আরাধ্য ভালোবাসার প্রিয় কুষ্টিয়া শহর ছেড়ে। আর কোন দিন কথা হলোনা প্রিয় আরাধ্য ভালোবাসার মানিষা খোন্দকারের সাথে, আর সৌজন্যতা বোধেও কথা হলোনা ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ী দুলাভাই এর সাথে। যাওয়া হলো না শাহীনের প্রিয় বটতৈল বা পুণ্যভূমি সিলেটে। এক বুক শুণ্যতা নিয়ে কুষ্টিয়া শহর থেকে পাবনায় চলে আসে বিষন্ন বুকে স্বপ্নহীন চোখে! চাপা কষ্ট বুকে চেপে খুঁজে ফিরছে আরাধ্য ভালোবাসাকে, এখনও ফোনের রিংটোনে বা হঠাৎ মুখোমুখি হওয়ার লালিত বাসনায়। শাহীন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে নিঃরবে আনমনে বসে নিঃসংকোচে ভাবে সেই আরাধ্য ভালোবাসার কথা! হয়তো তার আরাধ্য ভালোবাসা কোন কিছুতেই মনে রাখেনি তার কবিকে! যে কবির নামের সাথে ডাক্তার নাম মানায় না !
(২৪-০৯-২৫)
এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ
প্রভাষক-
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
প্রফেসর বয়েন উদ্দিন ডিগ্রি (অনার্স) কলেজ, চাটমোহর,পাবনা।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এস এম এম আকাশ