ওসমান হাদির ওপর হামলায় সর্বদলীয় প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত

ওসমান হাদির ওপর হামলায় সর্বদলীয় প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত
ছবিঃ ই

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় যৌথ প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত দল তিনটির নেতাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হবে, যা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে। বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামীকাল বা পরশু শাহবাগ অথবা শহীদ মিনারে যে প্রতিবাদ সভা হবে, তাতে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি সেই সভায় অংশ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় শরিফ ওসমান হাদিকে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী হিসেবে পরিচিত হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। পুলিশ সন্দেহভাজন এক গুলিবর্ষণকারীর ছবি প্রকাশ করেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তাকারীকে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। হামলার ঘটনায় জুলাই অভ্যুত্থানে সংশ্লিষ্ট দল ও সংগঠনগুলো নিন্দা জানিয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী তরুণরা দাবি করছেন, পতিত আওয়ামী লীগ জুলাই আন্দোলনের নেতাদের হত্যার মিশনে নেমেছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে অপরাধীকারী হিসেবে উপস্থাপনের জন্য মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে স্বাভাবিকীকরণের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা চলছে—টিভি টক শোতে তাদের উপস্থিতি, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ ও আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান এর উদাহরণ। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী দলীয় অনৈক্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থে দলগুলোই আওয়ামী লীগের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বৈঠকে স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপের বক্তব্য বিরোধীদের সুযোগ দিয়েছে। ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে আমরা একে অপরকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছি, যা জাতিকে বিভক্ত করছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে বড় শক্তি কাজ করছে, যাদের লক্ষ্য নির্বাচনই হতে না দেওয়া। তিনি এ হামলাকে ‘অত্যন্ত প্রতীকী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের শক্তি প্রদর্শন ও নির্বাচনের সব আয়োজন ব্যাহত করতে চায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে এবং তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে আহ্বান জানান এবং বলেন, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছড়ানো যাবে না। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকতে পারে, কিন্তু শত্রুভাবাপন্ন বা আক্রমণাত্মক সংস্কৃতি পরিত্যাগ করতে হবে। নির্বাচনকালীন উত্তেজনা যেন নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরুর পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলগুলো দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, যাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্যে ফাটল না ধরে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ই