শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বাদী নারাজ

কেন নারাজ বাদী? ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বাদী নারাজ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি; ছবি:ই

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) বিরুদ্ধে নারাজি জানিয়েছেন মামলার বাদী।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৬ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১২ জানুয়ারি বাদী আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চান। আদালত আজকের দিনে অভিযোগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। সেই শুনানিতেই বাদী পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি জানান।

অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ১৭ আসামির মধ্যে ৬ জন পলাতক রয়েছেন। বাকি ১১ জন বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।

পলাতক আসামিরা হলেন: ফয়সাল করিম মাসুদ (ওরফে দাউদ), তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (ওরফে বাপ্পি), ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।

কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন: ফয়সাল করিমের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী (ওরফে উজ্জ্বল), ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম (ওরফে রাজু) ও মো. ফয়সাল।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়: ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশনায় ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সরাসরি গুলি করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ। এ সময় ফয়সাল করিমকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ: গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ছিলেন ওসমান বিন হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। তার মাথা ও ডান কানের নিচে গুলি লাগে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থা জটিল হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ওসমান হাদির সহকর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরে হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/