সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয় ও কর্মসংস্থানে টিএমএসএস'র অনন্য অবদান
দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধিঃ
রান্নার গ্যাস ও কেরোসিন তেলের বিকল্প উৎস সৃষ্টি, পরিবেশ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে প্রবর্তিত জাতীয় ভিত্তিক সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গে জন্ম নেওয়া বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, প্রখ্যাত নারী সংগঠক, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক অধ্যাপিকা ডক্টর হোসনে-আরা বেগম প্রতিষ্ঠিত দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ও আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস ছিল সর্ববৃহৎ অংশ গ্রহণকারী সংস্থা। সামাজিক বনায়নের আওতায় টিএমএসএস “ট্রি ডিপোজিট স্কীম” ও ঘন বনায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের অল্প জমি সর্বাধিক ব্যবহারের কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন করে। এ পদ্ধতিতে প্রতি দুই ফুট পরপর দ্রুত বর্ধনশীল কাঠজাত গাছ রোপণ করা হয়। পরের বছর থেকেই মাঝখান থেকে একটি করে গাছ পর্যায়ক্রমে হার্ভেস্ট করা হয়। এতে প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১ থেকে ৫ কেজি জ্বালানি খড়ি পাওয়া যায়, যা বিক্রয়ের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো নিয়মিত আয় করতে সক্ষম হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম বছরে ছোট গাছের শিকড়ের বিস্তার দুই ফুটের বেশি না হওয়ায় গাছগুলোর মধ্যে পুষ্টি বা জায়গাজনিত কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। বরং গাছ কাটার ফলে বনায়নে ধীরে ধীরে গাছের দূরত্ব বাড়ে এবং ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়-যা Maximum Utilization of Land” হিসেবে পরিচিত। এই ঘন বনায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সারাদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ও আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস একাধিকবার জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করেছে। বর্তমানে সংস্থাটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করে চলেছে। তবে ঘন বনায়নের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনাও মানা জরুরি। জ্বালানির অভাবগ্রস্ত মানুষেরা যেন ঝাটা মেরে ডাল-পাতা সংগ্রহ না করে, সে বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। এছাড়া বছরে মাত্র দুইবার সেচ দিলেই এই বনায়ন কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা যায়। উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো—এতে কীটনাশক, সার প্রয়োগ, নিড়ানি কিংবা অতিরিক্ত পরিচর্যার তেমন কোনো ব্যয় নেই বললেই চলে।
পরিবেশবিদদের অভিমত, গরীব ও ক্ষুদ্র কৃষকের উপদ্রবযুক্ত পতিত বা অল্প উৎপাদনশীল জমিতে এই ঘন বনায়ন পদ্ধতি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত ইতিবাচক ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক অধ্যাপিকা ডক্টর হোসনে আরা বেগম। তিনি বগুড়ার টিএমএসএস'র কর্ম এলাকায় এমন সেবা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এ সংস্থা। এ সময় নির্বাহী পরিচালকের একান্ত সচিব সাবিক মোঃ ফেরদৌস রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান