বাসর রাতে কনে পরিবর্তনের অভিযোগ, মামলা–পাল্টা মামলায় বর কারাগারে

বাসর রাতে কনে পরিবর্তনের অভিযোগ, মামলা–পাল্টা মামলায় বর কারাগারে
ছবিঃ মোঃ নাজিমুল ইসলাম

দৈনিক বিজয় নিউজ ঠাকুরগাঁ প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক ও বিরল এক অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাসর রাতে কনে পরিবর্তনের অভিযোগে দুই পক্ষের মামলা–পাল্টা মামলার জেরে বর রায়হান কবির বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের যুবক রায়হান কবির ঘটকের মাধ্যমে রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার একটি মেয়েকে পছন্দ করেন। উভয় পরিবারের সম্মতিতে নির্ধারিত সময়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের দিন রাতেই নবদম্পতি বরপক্ষের বাড়িতে ফিরে যান।

বরপক্ষের অভিযোগ, বাসর রাতে কনের অতিরিক্ত সাজসজ্জা ধোয়ার পর রায়হান কবির বুঝতে পারেন—যে পাত্রীকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে উপস্থিত নারী তিনি নন। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন কনেকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে বিষয়টি আইনি জটিলতায় রূপ নেয়। গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক ছেলেপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর পাল্টা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলাগুলো বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রায়হানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রায়হানের পরিবারের দাবি, ঘটক যে পাত্রী দেখিয়েছিলেন তিনি ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন। বিয়ের সময় পারিবারিক ও সামাজিক চাপে নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ পাওয়া যায়নি। এতে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ছেলেপক্ষ আমাদের বাড়িতে এসে আমার মেয়েকেই দেখে গেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, বিয়ের পর ছেলেপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সময় চাওয়ায় বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে এবং সমঝোতা ভেঙে যায়। এ বিষয়ে ঘটক মোতালেব বলেন, তিনি কোনো ভিন্ন পাত্রী দেখাননি। ঘটনার পর পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ছেলেপক্ষের আইনজীবী ও বার কাউন্সিলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, “কনে বদল সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা আদালতেই যাচাই হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।” এই অস্বাভাবিক বিয়ের ঘটনাকে কেউ প্রতারণার অভিযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে যৌতুক সংক্রান্ত আইনি জটিলতার ফল বলে মনে করছেন। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে এই ঘটনার প্রকৃত পরিণতি।

দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ নাজিমুল ইসলাম