নির্বাচন ঘিরে বাড়িমুখী মানুষ, দুই মহাসড়কে গাড়ির চাপ
দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করায় বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। একসঙ্গে এত বেশি মানুষের বাড়ির পথে যাত্রা করার ফলে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে রাস্তায় থেমে থেমে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো যাত্রীদের।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে।
ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট দিতে কারখানা থেকে ছুটি পেয়েছি। সকালেই রওনা হয়েছি, কিন্তু চন্দ্রা এলাকায় এসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছি। কখন বাড়ি পৌঁছাব, বুঝতে পারছি না।’
গৃহকর্মী হাসিনা বেগম কোনাবাড়ী থেকে বাসে করে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার জন্যই এত কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছেন। কিন্তু রাস্তার এই যানজটে ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, আগে লম্বা ছুটির সময় মহাসড়কে শত শত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু এবার নির্বাচন হওয়ায় পুলিশের প্রায় সব সদস্যই নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যস্ত। পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় চন্দ্রাসহ আশপাশের এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়েই যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় অনেক বেড়েছে। অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রাকে চেপে গন্তব্যে যাচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের চালক ও সুপারভাইজাররা এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চল থেকে চলতি মৌসুমে সরিষা ও ধানের আবাদ করতে আসা অনেক শ্রমিক টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কাজ করছেন। আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন উপলক্ষে তারা ভোট দিতে গতকাল সোমবার বিকেল থেকেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাদের ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কারখানায় কর্মরত উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকরাও বাড়ি ফিরছেন। এ কারণেই মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
সকালে মহাসড়কের দেওহাটা ও মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই শ্রমিক। দিনাজপুরগামী যাত্রী সুজন দে সকাল ছয়টা থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, সকাল পৌনে আটটা পর্যন্ত কোনো বাস পাননি। কিছু বাস থামলেও সেগুলো অতিরিক্ত ভাড়া চাইছে। কম ভাড়ার বাসের জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহাসড়কের যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন মির্জাপুর পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ। তিনি লিখেছেন, ‘রাতে ঢাকা থেকে মির্জাপুর আসতে ১১ ঘণ্টা লাগছে। রাস্তায় শুধু মানুষ আর মানুষ। কোনো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নেই। ভাড়া আদায় করা হচ্ছে চার গুণ। দেখার বা বলার কেউ নেই। ফলে কষ্টে আছি আমরা, কষ্টে আছে শ্রমিক, কষ্টে আছে বাংলার জনগণ।’
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ই