মন্ত্রিসভায় ৯ জনের বয়স ৭০–এর বেশি, ৪০–এর কম বয়স ২ জনের
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের গড় বয়স প্রায় ৬০ বছর। এতে সর্বোচ্চ বয়সী সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, যার বয়স ৮১ বছর। সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নুরুল হক নুর, যার বয়স ৩১ বছর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত মঙ্গলবার নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভায় ৪৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।
বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৯ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। অর্থাৎ মন্ত্রিসভার প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্যের বয়স ৫০-এর ঊর্ধ্বে। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১৬ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১৪ জন এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী ৯ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী সদস্য রয়েছেন ৮ জন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বয়স ৫৭ বছর। তিনি ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মাতা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর এবার তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম সদস্য বীর বিক্রম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি ১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ভোলা-৩ আসন থেকে এটি নিয়ে সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন তিনি। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারেও তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নুরুল হককে শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। মিত্র দল গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের জন্য এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন এবং প্রথমবারেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন।
মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠদের মধ্যে ৩৮ বছর বয়সী ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
৪৬ জন উচ্চশিক্ষিত
নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মন্ত্রিসভার ৫০ সদস্যের মধ্যে ৪৬ জনই উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন তিনজন এবং বার অ্যাট ল ডিগ্রিধারী রয়েছেন দুজন। এছাড়া এসএসসি পাস সদস্য রয়েছেন দুজন, এইচএসসি পাস সদস্য রয়েছেন একজন এবং স্বশিক্ষিত সদস্য রয়েছেন একজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এইচএসসি পাস।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী স্বশিক্ষিত সদস্য হলেন সিলেট-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
পিএইচডি ডিগ্রিধারী তিনজন হলেন—চাঁদপুর-১ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, যিনি শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন; খলিলুর রহমান, যিনি টেকনোক্রেট হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন; এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী এম এ মুহিত, যিনি স্বাস্থ্য ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। বার অ্যাট ল ডিগ্রিধারী দুজন হলেন—নেত্রকোনা-১ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী কায়সার কামাল, যিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন; এবং চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, যিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
৬২% ব্যবসায়ী
মন্ত্রিসভার সদস্যদের পেশা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ জনের মধ্যে ৩১ জন নিজ নিজ নির্বাচনী হলফনামায় প্রধান পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। এই হিসেবে মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী।
সংখ্যার দিক থেকে ব্যবসায়ীদের পরেই রয়েছেন আইনজীবী। এবারের মন্ত্রিসভায় আইনজীবী রয়েছেন ৭ জন। এছাড়া তারেক রহমানসহ দুজন নিজেদের পেশা রাজনীতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মন্ত্রিসভার অন্যান্য পেশার মধ্যে রয়েছেন দুজন চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন বিজ্ঞানী, একজন সাবেক কূটনীতিক, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন কৃষক, একজন পরামর্শক, একজন প্রকাশক এবং একজন প্রকৌশলী।
মন্ত্রিসভার মোট ৫০ সদস্যের মধ্যে ৪৯ জনের বয়স পাওয়া গেছে। টেকনোক্রেট পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বয়স জানা যায়নি। ফলে ৪৯ জনের বয়স যোগ করে গড় বের করলে তা দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ৬১ বছর। খলিলুর রহমান ১৯৬৯ সালে এসএসসি পাস করেছেন বলে জানা গেছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ