বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘দুর্দিনের কাণ্ডারি’ মাম্যাচিংকে দেখতে চায় তৃণমূল ও জেলাবাসী!
দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সঠিক মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে, দলের কঠিন সময়ে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দলকে সুসংগঠিত রাখার কারিগর মিসেস মাম্যাচিংকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় জেলার সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, গত দেড় দশকে আওয়ামী দুঃশাসনের সময় যখন বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষা করাই চ্যালেঞ্জ ছিল, তখন বান্দরবানে নেতাকর্মীদের ছায়া হয়ে ছিলেন মিসেস মাম্যাচিং। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদিকা এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির সাবেক এই সফল সভাপতি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা জানান, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনে মাম্যাচিংয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বহু মামলা-হামলা এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন সহ্য করেও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে তার মতো একজন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেত্রীর কোনো বিকল্প নেই। বান্দরবানের সচেতন নাগরিক সমাজ ও দলীয় কর্মীরা মনে করেন, যারা দুর্দিনে দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন, তাদের যোগ্য সম্মান ও স্থান দেওয়া এখন সময়ের দাবি। মিসেস মাম্যাচিংকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিলে কেবল দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হবে না, বরং বান্দরবানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “ম্যাডাম মাম্যাচিং কেবল একজন নেত্রী নন, তিনি আমাদের অভিভাবক। দলের চরম দুঃসময়ে তিনি যেভাবে হাল ধরেছিলেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। বান্দরবানবাসী চায় এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তার এই দীর্ঘ আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করুক এবং তাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে জেলার মানুষের সেবা করার সুযোগ করে দিক।”
উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সারা দেশের মতো পার্বত্য জেলাগুলোতেও প্রশাসনিক সংস্কারের হাওয়া বইছে। এই প্রেক্ষাপটে বান্দরবান জেলা পরিষদের নেতৃত্বে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান এবং জনঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে মিসেস মাম্যাচিংয়ের নাম এখন মুখে মুখে। এখন দেখার বিষয়, দলের হাই কমান্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বান্দরবানবাসীর এই প্রাণের দাবিকে কতটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সঠিক নেতৃত্বই পারে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বান্দরবান গড়তে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি