কেশরহাটে রহমান ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ভোগান্তিতে কৃষক-সাধারণ মানুষ
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিরতার মধ্যে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে অবস্থিত রহমান ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকরা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত দামে তেল না পেয়ে অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন। অন্যদিকে একটি প্রভাবশালী চক্র কালোবাজারে তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরকারের পক্ষ থেকে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও মজুতদারি ঠেকাতে প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ কঠোর নজরদারির নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ মার্চ রাত থেকেই রহমান ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাইনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অধিকাংশ গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ করেন। ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প মালিক মিজানুর রহমান (মিজান) পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহ করছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ গ্রাহকদের উপেক্ষা করে লাইনের বাইরে থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ট্যাংক পূর্ণ করে তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, “রাত থেকে লাইনে থেকেও তেল পাইনি, অথচ পরিচিতদের সহজেই তেল দেওয়া হচ্ছে—এটি চরম বৈষম্য।” প্রতিবাদ জানালে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল না পাওয়ায় জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষক আল আমিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তেলের জন্য ঘুরছি, না পেয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।” স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ ডিজেল অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে বাগমারা, তানোর ও মান্দা এলাকায়। ফলে পাম্পে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলেও বাইরে চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি মূল্যের তুলনায় কালোবাজারে ডিজেল ও পেট্রোল দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
গত ৩১ মার্চ ত্রিমোহনী বাজারে কাগজপত্রবিহীন প্রায় ২০০ লিটার ডিজেলসহ এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় তেল পাচারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ওই তেল জব্দ করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে রহমান ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও ট্যাগ অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণে কেউ তেল না পেয়ে থাকলে এর দায়ভার তার নয় বলেও তিনি দাবি করেন। মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, রহমান ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন মহল মনে করছে, অবৈধ বিক্রি বন্ধ, ট্যাগ অফিসারদের কার্যকর ক্ষমতা প্রয়োগ এবং পাম্পগুলোতে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলে এ ধরনের অনিয়ম কমানো সম্ভব। ভুক্তভোগীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং রহমান ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন