পশু হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসা
দৈনিক বিজয় নিউজ পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসা সেবার অভিযোগ উঠেছে। সনদহীন ব্যক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকলে এক মাঠ সহকারী নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে গবাদি পশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কর্মস্থলে না থাকলেই শৈবাল কৃষ্ণ সরকার নামে এক মাঠ সহকারী হাসপাতালের একটি কক্ষে বসে রোগী দেখেন। তিনি প্রেসক্রিপশন লিখে দেন এবং কখনো কখনো অ্যান্টিবায়োটিকও প্রদান করেন, যদিও তার কোনো ভেটেরিনারি ডিগ্রি বা অনুমোদন নেই। ভুক্তভোগীরা জানান, চিকিৎসার নামে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অনেক সময় গবাদি পশুর অবস্থার অবনতি ঘটছে। নিম্নআয়ের খামারিরাই বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এক ভুক্তভোগী জানান, তার অসুস্থ ছাগল নিয়ে হাসপাতালে গেলে অফিস সহায়ক তাকে কথিত চিকিৎসকের কাছে পাঠান। পরে ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রেসক্রিপশন দেন, যা প্রয়োগের পর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ বলেন, “মাঠ সহকারী কোনোভাবেই প্রেসক্রিপশন লিখতে বা অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট এলডিডিপি প্রকল্পের চিকিৎসক চঞ্চল কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত হাসপাতাল খোলা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে বিকেল হওয়ার আগেই হাসপাতালের ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। ফলে জরুরি সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন খামারিরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মচারী ও দালালচক্র মিলে এই অনিয়মকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভুয়া চিকিৎসা বন্ধ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং হাসপাতালে নিয়মিত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা হোক।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আল মামুন