রংপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল ব্রি হাইব্রিড ৩ জাতের বোরো ধান

রংপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল ব্রি হাইব্রিড ৩ জাতের বোরো ধান
ছবিঃ আতিকুর রহমান

দৈনিক বিজয় নিউজ পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধিঃ

রংপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল ব্রি হাইব্রিড ৩ জাতের বোরো ধান। বিএলবি নেক ব্লাস্ট রোগ সহনশীল। বন্যা আসার আগেই এই ধান আগাম কর্তন করা হয়। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে এই ব্রি হাইব্রিড ৩ জাতের ধান চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিনামূল্যে কৃষকদের ধানের বীজ সরবরাহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রংপুরে জমির উর্বরতা অনেক ভালো। উঁচু নিচু জমিতে ব্রি হাইব্রিড ৩ ধানের চাষাবাদ ভালো হয়। বন্যা আসার আগে আগাম জাতের এই ধান কর্তন করা হয়। মাত্র ১৪০ থেকে ১৪৫ দিনের বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল ব্রি হাইব্রিড ধান-৩ জীবনকাল। সহনশীল ব্রি হাইব্রিড ৩ জাতের বোরো ধান চাষাবাদে দিন দিন আগ্রহ হচ্ছে চাষিরা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা আঞ্চলিক কার্যালয়ের বাস্তবায়নে ও পীরগাছা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় “অধিক ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন,গবেষণা ও আধুনিকায়ন” প্রকল্পের অর্থায়নে  বুধবার দুপুরে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার আদম সবুজ পাড়া এলাকায় এই জাতিটির মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ধান গবেষণা বিভাগ থেকে জানা গেছে,বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিনামূল্যে কৃষকদের ধানের বীজ সরবরাহ করা হয়। উচ্চ ফলনশীল এই ধান প্রতি হেক্টর ২৭ থেকে ২৮ মন ধান ফলন হয়। রংপুর অঞ্চল,বিশেষ করে পীরগাছার মতো স্থানগুলোতে বোরো ধান চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সবুজ পাড়া গ্রামের কৃষক সাবেদ আলী বলেন,আমি দুই হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ করেছি ফলন ভালো হয়েছে। আগামীতেও এই ধান চাষাবাদ করব। কৃষক লাভলু মিয়া বলেন,ধানের জাত খুব ভালো। উচ্চ ফলনশীল। আমরা যারা কৃষক আছি সবাই এই ধান চাষাবাদ করব। কৃষক যারা আছে এই ধান চাষাবাদ করবে এতে করে লাভবান হবে। কিভাবে ধান চাষাবাদ করতে হয় ইতিমধ্যেই সেটি আমাদেরকে কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন। কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন,এ ধরনের ফলন ভালো। রোগ বালাই কম হয়। আমি দুই হেক্টর জমিতে এই ধান চাষাবাদ করেছি। এই ধানের ভাত খেতেও খুব সুস্বাদু। কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন,শতকে এক মনের বেশি হয়েছে এই ধান। আগামীতেও এই ধান আবার চাষাবাদ করব। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে এই ধান চাষাবাদ করলে আমরা কৃষকরা বেশি লাভবান হবো। কৃষক আব্দুর রহমান রাসেল সরকার বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিনামূল্যে ব্রি হাইব্রিড ৩ জাতের ধানের বীজ নিয়ে রোপণ করেছি। চারা রোপণ শুরু থেকে ১৪০/১৪৫ দিনের মধ্যে ধান কর্তন করেছি। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ২৭ থেকে ২৮ মন ধান হয়েছে। এবারে দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেছি । কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে। আগামীতে আরো বেশি করে বিহাইব্রিড ৩ ধান চাষাবাদ করতে চাই।

পীরগাছা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: রব্বানী ইসলাম জানান,আমরা কৃষকদের জমিতে গিয়ে দেখে শুনে পরামর্শ দেই। যাতে করে কৃষক ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারে। এই ধানের ডিক পাতাটা খারা থাকে। রোগ বালাই কম হয়। ভাত খেতে খুব সুস্বাদু। তিনি আরও নতুন জাতের এই ধান চাষের পরামর্শ দেওয়ার কথা জানান কৃষি এই কর্মকর্তা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এস এস ও, ড.সেলিমা জাহান বলেন,বিএডিসি উচ্চফলনশীল ও উন্নত মানের বোরো এবং আউশ ধানবীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষকদের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে বিতরণ করে ব্রি হাইব্রিড ৩। এস এসও মো. মামুনের রশিদ বলেন, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বীজ ও সেচ সুবিধা প্রদান করে থাকে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজ আমরা কৃষকদের মাঝে দিয়ে থাকি। যাতে করে ভালো ভাবে চাষাবাদ করে কৃষকেরা লাভবান হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পি এসও ড. মো. রকিবুল হাসান জানান, এই বোরো মৌসুমে তিনটি হাইব্রিড ধান আছে প্রদর্শনী দিয়েছিলাম। ব্রি হাইব্রিড ধান ৩, ৫ ৮। প্রদর্শনী বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ সরবরাহ করেছি। ব্রি হাইব্রিড ৩ ধান চার পাঁচ বছর থেকে প্রদর্শনী দিচ্ছি রংপুর বিভাগের প্রতিটি জায়গায়। এবং কৃষক পর্যায়ে এটি ভালো গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন,বিঘা প্রতি ২৭ থেকে ২৮ মন ধান হয়েছে। এই ধান চাষাবাদ করলে রোগ বালাই কম হয়। বন্যার আগেই এই ধান কর্তন করা হয়। এই ধানের জীবনকাল শুরু থেকে ধান কর্তন পর্যন্ত সময়কাল খুবই অল্প। ১৪০ থেকে ১৪৫ দিনের মধ্যে ধান ঘরে তোলা যায়। অন্যান্য হাইব্রিড ধানের চেয়ে এই ধানের ভাত কৃষকরা খেতে পারবে। পীরগাছা উপজেলা চর অঞ্চলে এই ধরনের
ধান চাষাবাদ করতে উদ্ভাবিত করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাওলা ব্লকের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: লুৎফুল হাসান, গ্লোবাল টেলিভিশন ও প্রতিদিনের সংবাদ রংপুর অফিস প্রধান ও পীরগাছা রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি আব্দুর রহমান রাসেল,ক্যামেরাম্যান নাঈম হোসেন, সিহাব হোসেন সৌরভ,সোহান,নিলয়,সহ একশত জনের অধিক কৃষক কৃষানি বৃন্দ। উল্লেখ্য যে,চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের বোরো ধান প্রায় ১২ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল ব্রি হাইব্রিড ৩ ধানের চাষাবাদ হয়েছে। যে টি উচ্চ ফলনশীল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই ধান চাষাবাদ করে ভালো ফলন হওয়ায় অনেক উৎসাহিত। গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ২০০৯ সালে ব্রি হাইব্রিড ৩ ধান অবমুক্ত করা হয়। পরে ২০২১ সাল থেকে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে এই ধান সরবরাহ করা হয়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ আতিকুর রহমান