পাবিপ্রবি— স্মৃতির ক্যানভাসে আঁকা তারুণ্য ও আবেগের নাম
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবিক মূল্যবোধের দীপ্ত আলোকবর্তিকা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আজ তার প্রতিষ্ঠার গৌরবময় অভিযাত্রার আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ৫ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শিক্ষার্থীরা শুভেচ্ছা জানান। লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. মাকসুদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন,"জীবন তো আসলে কতগুলো স্মৃতির সমষ্টি। আর সেই স্মৃতির সবচেয়ে রঙিন, সবচেয়ে মায়াময় অধ্যায়টির নাম হলো— বিশ্ববিদ্যালয়। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) আমাদের কাছে কেবল কয়েকটি ইটের দালান বা একটি প্রাতিষ্ঠানিক নাম নয়; এটি আমাদের হাসি-কান্না, মান-অভিমান আর হাজারো অপূর্ণ স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার এক জীবন্ত আশ্রয়। ৫ জুন, আমাদের প্রিয় পাবিপ্রবির প্রতিষ্ঠা দিবস— যে দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই ক্যাম্পাসের প্রতি আমাদের নাড়ির এক গভীর টানের কথা।

ছবিঃ মো: সোহাগ মিয়া
ক্যাম্পাসের পিচঢালা পথ, টংয়ের চায়ের আড্ডা, লাইব্রেরির সুনসান নীরবতা কিংবা বন্ধুদের সাথে কাটানো শেষ বিকেলের সোনালি রোদ— এসব কিছুর মাঝেই লুকিয়ে আছে আমাদের এক একটা না-বলা গল্প। বাড়ি ছেড়ে আসা একঝাঁক তরুণ-তরুণী এই ক্যাম্পাসের বুকেই খুঁজে পায় তাদের দ্বিতীয় পরিবার। এখানে কেউ অচেনা থাকে না, ধুলোমাখা আড্ডায় সবাই একই সুতোয় গাঁথা পড়ে যায়। পরীক্ষার আগের রাতের বিনিদ্র প্রহর থেকে শুরু করে দিনশেষে এক কাপ চায়ে ক্লান্তি দূর করা— প্রতিটি মুহূর্তই পাবিপ্রবি তার বুকে পরম মমতায় ধারণ করে।

ছবিঃ মো. মাকসুদুল ইসলাম রিয়াদ
সবুজে ঘেরা এই সুবিশাল প্রাঙ্গণ যেন আমাদের সব অব্যক্ত কথার নীরব শ্রোতা। এই ক্যাম্পাসের খোলা আকাশের নিচে, বৃক্ষরাজির ছায়ায় আর মুক্ত বাতাসে বসেই কত স্বপ্ন বোনা হয়, কত ভবিষ্যৎ জীবনের নকশা আঁকা হয়! দিন যায়, সেমিস্টার শেষ হয়, বছর পেরিয়ে যায়। আমরা হয়তো একদিন এই প্রিয় প্রাঙ্গণ ছেড়ে জীবনের তাগিদে বহুদূরে পাড়ি জমাবো, কিন্তু পাবিপ্রবির এই মায়াবী স্মৃতিগুলো আজীবন আমাদের মনের গহিনে অমলিন থেকে যাবে।
একটি বিশ্ববিদ্যালয় বড় হয় তার শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায়, শিক্ষকদের স্নেহে আর সবার সম্মিলিত আবেগে। প্রতিষ্ঠা দিবসের এই লগ্নে ফিরে তাকালে বুকটা যেমন গর্বে ভরে ওঠে, তেমনি এক অদ্ভুত মায়ায় চোখও ভিজে আসে। যে প্রাঙ্গণ আমাদের এতটা আপন করে নিয়েছে, আমাদের শূন্য পকেট আর আকাশছোঁয়া স্বপ্নগুলোকে আগলে রেখেছে, তার প্রতি ভালোবাসার আসলে কোনো পরিসীমা হয় না।

ছবিঃ সিহাব হোসেন
পাবিপ্রবি আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে শেকড়কে ভালোবাসতে হয়? কীভাবে শত সংকটেও একে অপরের পাশে থাকতে হয়? আমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন?চোখের পাতা এক করলেই দেখতে পাব— চিরসবুজ ওই ক্যাম্পাসটা আমাদের ডাকছে। পাবিপ্রবি কেবল আমাদের বিদ্যাপীঠ নয়, এটি আমাদের তারুণ্যের স্পন্দন, আমাদের এক বুক ভালোবাসা আর চিরকালের এক পবিত্র আবেগের নাম।
অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সিহাব হোসেন বলেন,"কিছু কিছু জায়গা মানুষের জীবনে কেবল একটা অধ্যায় হয়ে আসে না, পুরো জীবনের গল্পটাই বদলে দেয়। আমাদের জন্য সেই জাদুকরী জায়গাটার নাম— পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। ক্লাসরুমের করিডোরের প্রতিধ্বনি আর ক্যাম্পাসের বাতাসে ওড়া ধুলোবালি— এসব কিছুই কেমন যেন আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে গেছে। দেখতে দেখতে আরও একটি বছর পেরিয়ে ৫ জুন এসে কড়া নাড়ল আমাদের দ্বারে। শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের পাবিপ্রবি! অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা ক্লাসে প্রতিনিয়ত লাভ-ক্ষতি, উপযোগ আর চাহিদার হিসাব কষি। কিন্তু এই ক্যাম্পাসের প্রতি আমাদের যে ভালোবাসা, বন্ধুদের সাথে কাটানো যে একেকটি বিকেল— তার "উপযোগ" কোনো গাণিতিক সূত্রে পরিমাপ করা অসম্ভব। এখানে হিসাবের খাতাগুলো এক অদ্ভুত আবেগে এসে থমকে দাঁড়ায়। পকেটের শূন্যতা আর ভবিষ্যতের আকাশছোঁয়া চাহিদার মাঝে ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে হাসিমুখে বাঁচা যায়, তা কোনো পাঠ্যবই নয়, আমাদের এই প্রিয় পাবিপ্রবি শিখিয়েছে।
ক্যাম্পাসের পিচঢালা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে এই চিরসবুজ প্রাঙ্গণটা মনের অজান্তেই দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে উঠেছে, তা বুঝতেই পারিনি। বন্ধুদের সাথে টংয়ের দোকানে বসে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের আড্ডা, পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে সিলেবাস শেষ করার যৌথ যুদ্ধ, কিংবা কোনো এক মন খারাপের বিকেলে মুক্তমঞ্চের সিঁড়িতে বসে থাকা— এই তো আমাদের পাবিপ্রবি। এখানে একেকটা দিন যেন একেকটা জীবন্ত স্মৃতির ক্যানভাস, যেখানে আমাদের তারুণ্যের সবচেয়ে রঙিন দিনগুলো আঁকা হচ্ছে।
ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়ার রাঙা রঙ কিংবা শেষ বিকেলের মায়াবী আলোয় যখন পুরো ক্যাম্পাস সেজে ওঠে, তখন মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য বোধহয় এই ৩০ একরের বুকেই লুকিয়ে আছে। আমরা জানি, সেমিস্টারের চাকা ঘুরবে, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাবে এবং একদিন আমরাও এই চেনা আঙিনায় 'প্রাক্তন' হয়ে যাব। জীবনের তাগিদে হয়তো পাড়ি জমাতে হবে বহুদূরে, চেনা আকাশটা বদলে গিয়ে অচেনা কোনো শহরের আকাশ হবে। কিন্তু পাবিপ্রবির এই মায়ার বাঁধন, এই মাটির টান কোনোদিনও শিথিল হওয়ার নয়। যেখানেই থাকি না কেন, অর্থনীতির পরিভাষায় বলতে গেলে— এই ক্যাম্পাসের স্মৃতির 'রিটার্ন' আমাদের জীবনে আজীবন সর্বোচ্চ থাকবে।
একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল দালানকোঠায় বড় হয় না, তা সমৃদ্ধ হয় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর আবেগের মেলবন্ধনে। প্রতিষ্ঠা দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে পাবিপ্রবির প্রতিটি কোণার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যা আমাদের প্রতিনিয়ত ডানা মেলতে শেখায়, স্বপ্ন দেখতে সাহস দেয়। পাবিপ্রবি আমাদের কাছে শুধু একটি বিদ্যাপীঠ নয়; এটি আমাদের তারুণ্যের স্পন্দন, আমাদের এক বুক ভরসা আর চিরকাল আগলে রাখার মতো এক পবিত্র ভালোবাসার নাম।"
লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো: সোহাগ মিয়া বলেন, "জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকবর্তিকা হয়ে আজ সাফল্যের এক গৌরবময় পথ অতিক্রম করেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আগামীকাল এই প্রিয় বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন, গবেষণার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই প্রতিষ্ঠান শুধু ডিগ্রি প্রদান করে না, বরং স্বপ্ন দেখতে, চিন্তা করতে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্তে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও বিশ্বমানের অগ্রযাত্রা কামনা করি। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি প্রজন্ম, আরও সমৃদ্ধ হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস। শুভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, প্রিয় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। গর্ব হোক তোমার অর্জনে, অনুপ্রেরণা হোক তোমার পথচলায়।"
লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানজির অন্তু বলেন,“জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব”— এই চেতনা ধারণ করেই পথচলা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি)। প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, অর্জনের গৌরব এবং ভবিষ্যতের প্রত্যয়কে। ইছামতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই বিদ্যাপীঠ আজ জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের যুগে পাবিপ্রবির সামনে রয়েছে নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ। গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও উদ্ভাবনমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও এগিয়ে যাবে—এটাই সবার প্রত্যাশা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের, যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাবিপ্রবি আজ দেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে। আমাদের বিশ্বাস, পাবিপ্রবি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়; এটি একটি স্বপ্ন, একটি সম্ভাবনা এবং একটি আলোকিত ভবিষ্যতের প্রতীক। ইছামতীর প্রবহমান জলধারার মতোই এর জ্ঞানের আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক—এই হোক বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রত্যাশা।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ভাস্কর চন্দ্র রায়