বগুড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অংশগ্রহণমূলক সংলাপ : উত্তরবঙ্গের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে জনবান্ধব নীতির পথে অগ্রযাত্রা
দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধি:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য একটি সহায়ক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব মুদ্রানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে সারা দেশব্যাপী ব্যাপক পরামর্শ ভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে ৬ জুন শনিবার বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ মূলক আলোচনা সভা। যেখানে শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ দীর্ঘ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া অফিসের কনফারেন্স হল রুমে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্যবসায়ী ও উপস্থিত সকল শ্রেণী পেশার মানুষের উদ্দেশ্যে নানা পরামর্শ মূলক বক্তব্য ও দিক নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ। এছাড়াও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরি পলিসি ডিপার্টমেন্ট'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উত্তরবঙ্গের নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগন প্রমুখ।সভায় বক্তারা দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, কৃষিখাতের সহায়তা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন একটি মুদ্রানীতি প্রয়োজন, যা একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। সভায় অন্যদের মধ্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ,সেবক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ও আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আধুনিক টিএমএসএস'র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসেন-আরা বেগম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিকট একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা লিখিত আকারে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতিকে আরও বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমুখী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, কৃষি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহজ শর্তে ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন সংকটের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য মুদ্রানীতিতে এমন পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যা উৎপাদনমুখী খাতকে উৎসাহিত করবে এবং জনগণের জীবন যাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে সহায়ক হবে। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন। তারা মনে করেন, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অংশীজনদের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে প্রণীত মুদ্রানীতি অধিক কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও জনগণের প্রত্যাশা-অনুযায়ী হবে।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন মতামত, সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং জানান যে, এসব পরামর্শ ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানের শেষে গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান অংশ গ্রহণকারীদের মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় অংশীজন ভিত্তিক নীতিনির্ধারণে বিশ্বাসী। তিনি একটি ভারসাম্য পূর্ণ, প্রবৃদ্ধি বান্ধব ও জনকল্যাণ মুখী মুদ্রানীতি প্রণয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এই অংশ গ্রহণমূলক সংলাপ দেশের আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন উন্মুক্ত পরামর্শ ভিত্তিক উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা প্রতিনিধি, সুধীজন ,বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তার, নানা এনজিও প্রতিনিধি, টিএমএসএস'র নির্বাহী পরিচালকের একান্ত সচিব সার্বিক মোঃ ফেরদৌস রহমান ও মিডিয়া কর্মী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান