সসম্রাট শাহজাহান পত্নী মমতাজ বেগমের প্রয়াণ দিবস আজ
দৈনিক বিজয় নিউজ নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
আজ ১৭ জুন মমতাজ মহল সাধারণ ডাকনাম আরজুমান্দ বানু বেগম (ফার্সি: ﻣﻤﺘﺎﺯ ﻣﺤﻞ; উচ্চারণ; অর্থ "প্রাসাদের অলঙ্কার") এর প্রয়াণ দিবস। তিনি ভারতের আগ্রায় ১৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন পারস্যের মহানুভব আবদুল হাসান আসাফ খান, যিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূর জাহানের ভাই। মমতাজ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। তার বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১৯ বছর বয়সে মে ১০, ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ খুর্রম এর সাথে, যিনি পরবর্তীকালে মুঘল সম্রাট শাহ জাহান (প্রথম) নামে তাখ্ত ই তাউস বা ময়ূর সিংহাসনে বসেন। মমতাজ শাহজাহানের তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি শাহ জাহানের পছন্দের ছিলেন। মমতাজ মৃত্যুবরণ করেন ডেক্কান বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের অন্তর্গত বুরহানপুরে জুন ১৭, ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে তার চতুর্দশ সন্তান জন্মদানের সময়, এক কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন নাম রাখা হয়েছিল গৌহর বেগম। মৃত্যুর পর মমতাজকে সমাহিত করা হয়েছিল আগ্রার তাজ মহলে। মমতাজ তার ফুফু নূরজাহানের মতোই অসামান্য রূপ ও গুণের অধিকারিণী ছিলেন। তিঁনি তাঁর সৌন্দর্যের মায়ায় সম্রাট শাহজাহানকে আবদ্ধ করেছিলেন। তাজমহল তাঁর স্ত্রীর প্রতি এক অসাধারণ প্রেমেরই প্রতীক।
একাধিক বেগমের বাদশাহ শাহজাহানের তৃতীয় স্ত্রী মমতাজ বেগমের সঙ্গে সম্রাটের বিবাহিত জীবন ছিল ১৯ বছরের। অথচ মাত্র ১৯ বছরের বিবাহিত জীবনে মমতাজ শাহজাহানের ১৪টি সন্তান প্রসব করেন। বলাবাহুল্য এই কারণেই তিনি ছিলেন শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। শারীরিক ধকল সহ্য করতে না পেরে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে প্রাণ হারান মমতাজ বেগম। এই তৃতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর পরেই তাঁর স্মৃতিতে ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তাজমহল তৈরি শুরু করেছিলেন মুঘল সম্রাট শাহজাহান। তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে তাজ নির্মাণ যুক্ত ছিলেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। মহল তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর। তাজমহল বানানোর কাজ শেষ হয় ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে। যদিও এরপরে ছোটখাটো কাজ সম্পন্ন করতে আরও দুই বছর সময় লাগে। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ উজ্জ্বল কুমার সরকার