বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের জন্য আত্মহত্যা করলেন পাবিপ্রবির শিক্ষার্থী

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের জন্য  আত্মহত্যা করলেন পাবিপ্রবির শিক্ষার্থী
ছবিঃ ভাস্কর চন্দ্র রায়

দৈনিক বিজয় নিউজ পাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

পাবনা শহরের একটি মেস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী রাজমনি ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজমনি ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি পাবনা শহরের ডিগ্রি বটতলা এলাকার বাদশা ছাত্রী নিবাসে থাকতেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মেসের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী ছিলেন। এজন্য কোর্সে ভর্তি হতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

স্বজনরা আরও জানান, রাজমনির বাবা তার জন্মের পর (২০০৫ সাল) থেকেই একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি এখনো কারাগারে আছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাজমনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন গার্মেন্টসকর্মী এবং ভাই গাড়িচালক। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

‎মেয়ের অভিভাবক চাচা জানান, সে প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাননি। দ্বিতীয়বারে সে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু তার ভর্তি হওয়া বিষয়টি পছন্দ ছিল না সে আইইএলটিএস করার জন্য পরিবারকে জানায় এবং তাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা চেয়ে বসেন। সে আইইএলটিএস করে বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করবে। তাকে সান্তনা দিয়ে বলেন আপাতত যেখানে আছো এটা ভালোভাবে পড়ো। সে জানায় তাহলে আমি কিসের লেখা পড়া করবো? আমরা বলি দেখা যাক কি করতে পারি। পরিবারের টানাপোড়নে সেই টাকাটি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

‎তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর দিন দুপুর ১২ টার আগে তার সাথে পরিবারের কথা হয় এবং পরবর্তীতে আমরা তার বন্ধু প্রান্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্ত্বতত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী তাকে বিষয়টি জানাই যে দেখতো সে ফোন ধরছে না কেন। রাজমনির বন্ধু প্রান্ত দেবনাথ বলেন, “সে তার পরিবার নিয়ে হতাশায় ছিল। দুপুরে আমাদের কথা হয় তখন সে পরিবার নিয়ে কথা বলে তখন বুঝতে পারলাম সে হতাশায় ভুগছিলেন। পরে ফোন দিলাম ফোন ধরতে ছিলো না এইজন্য তার পাশের জনকে ফোন দিয়েছিলাম।‎”

রুমমেট অর্পিতা রশিদ বলেন, “প্রান্ত ফোন দিয়ে বলেন, তোমার বান্ধবী অস্বাভাবিক আচরণ করছে। একটু দেখে এসো। ফোন দিচ্ছি, ধরছে না। এরপর মেসে ফোন দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আমি দ্রুত সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেন, “এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত। শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে যতটুকু সম্ভব, আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করেছি।”

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।”

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ভাস্কর চন্দ্র রায়