নওগাঁয় হরিজন পরিবারদের ১৫ দিনের মধ্যে আবাসন ত্যাগের আল্টিমেটাম অতঃপর অভিযোগ অস্বীকার করে মানবিক আশ্রয়ের আকুতি !

নওগাঁয় হরিজন পরিবারদের ১৫ দিনের মধ্যে আবাসন ত্যাগের আল্টিমেটাম অতঃপর অভিযোগ অস্বীকার করে  মানবিক আশ্রয়ের আকুতি !
ছবিঃ উজ্জ্বল কুমার সরকার

দৈনিক বিজয় নিউজ নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

​নওগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে ১৯৪৭ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করে আসা ভূমিহীন হরিজন সম্প্রদায়ের ওপর নেমে এসেছে উচ্ছেদের খড়গ। গত ১ জুলাই, ২০২৬ বুধবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আকস্মিকভাবে একটি নোটিশ প্রদান করে উক্ত পরিবারগুলোকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরকারি কোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ​নোটিশে যা বলা হয়েছে: উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রুহুল আমিনস্বাক্ষরিত এই নোটিশে বলা হয়েছে, উক্ত কোয়ার্টারে বসবাসকারীরা দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, যা আইনত অপরাধ। নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও অবৈধভাবে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

গত ৬ মাস ধরে মৌখিকভাবে কোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আরও জানানো হয়, আনসার সদস্যদের আবাসনের জন্য ভবনগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং আগামী ১৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখের মধ্যে জায়গা খালি না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, নোটিশে উল্লিখিত মাদক ব্যবসা ও অবৈধভাবে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন বসবাসরত হরিজন পরিবারগুলো। তারা জানিয়েছেন, তাদের সম্প্রদায়ের কেউ এ ধরনের কোনো অপরাধমূলক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নন। দীর্ঘ প্রায় আট দশক ধরে আশ্রিত এই পরিবারগুলোর দাবি, বিকল্প কোনো বাসস্থান না থাকায় এই আকস্মিক উচ্ছেদ নোটিশ তাদের জীবনকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, নওগাঁ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জেলা প্রশাসক, নওগাঁ বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। স্মারকলিপি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। ​বর্তমানে পুরো হরিজন সম্প্রদায় প্রশাসনের মানবিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, যেন তারা ভিটেমাটি হারিয়ে নিরুদ্দেশ না হন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রান্তিক ও ভূমিহীন এই জনগোষ্ঠীর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ উজ্জ্বল কুমার সরকার