কুমিল্লায় ডিবির অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার বরুড়ায় চলন্ত পিকআপ ব্যবহার করে গরুবাহী গাড়ির গতিরোধ ও ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার সাহাদাত হোসেনসহ ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে বরুড়া থানার মগবাড়ি এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল পিকআপ দিয়ে গরুবাহী একটি গাড়ির গতিরোধ করে। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে ৪টি গাভী ও ৪টি বাছুর লুট করে নিয়ে যায়। মহাসড়কে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের টহলদল লাকসাম থানার ফুলুয়া রোড এলাকায় ডাকাতদের পিকআপটি থামানোর সংকেত দিলে তারা তা অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি পলায়নকালে ডাকাতরা পুলিশের টহল সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে কুমিল্লার বিভিন্ন থানার পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান শুরু করে। লাকসাম থানার ওসি ডাকাতদের গাড়ি শনাক্ত করে ধাওয়া করলে লালমাই থানার বাগমারা এলাকার ভুশ্চিগামী সড়কে ডাকাতরা পুলিশের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়, এতে পুলিশের গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পুলিশের তীব্র অভিযানের মুখে ডাকাত দল লাকসামের মুদাফফরগঞ্জ এলাকায় লুট করা ৪টি গাভী ও ৪টি বাছুর ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় লাকসাম থানায় মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের প্রধান সাহাদাত হোসেনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সাহাদাত হোসেন (৩৪), রুবেল (৪২), ইসমাইল (৪৫), কামাল সিকদার (৪০), নোমান (৪০) ও রাসেল আলী (৩৮)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পেশাদার ও সংঘবদ্ধ অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সর্দার সাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ১১টি, রুবেলের বিরুদ্ধে ১৭টি, নোমানের বিরুদ্ধে ৭টি এবং রাসেল আলীর বিরুদ্ধে ৫টি মামলা চলমান। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সর্দার সাহাদাত হোসেন আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ