নবগঠিত জেসিও ফাউন্ডেশনের সভাপতি শফিউল বাশার এর স্বৈরাচারী কার্যক্রমে মহাসচিব সহ প্রায় সকলের পদত্যাগ

নবগঠিত জেসিও ফাউন্ডেশনের সভাপতি শফিউল বাশার এর স্বৈরাচারী কার্যক্রমে মহাসচিব সহ প্রায় সকলের পদত্যাগ
ছবিঃ ইডি

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

১৪ই জুলাই ২০২৬ইং, "রিটায়ার্ড আমর্ড ফোর্সেস জেসিও ওয়েলফেয়ার  ফাউন্ডেশন" (RAJWF). এর মহাসচিব সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার জিল্লুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হারেস, সাংগঠনিক সম্পাদক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মাহাতাব উদ্দিন সহ সংগঠনের প্রায় সকলেই গণহারে পদত্যাগ করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ক্লার্ক শফিউল বাসার, প্রায় এক বছর পূর্বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত শুধুমাত্র ওয়ারেন্ট অফিসার, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ও মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার এই তিন পদবীর কিছু সংখ্যক সদস্যকে ব্রেন ওয়াশ দিয়ে,  ব্লাক মেইল করে, নিজের আয়ত্তে এনে  সারা বাংলাদেশে ৬৪ হাজার গ্রাম গঞ্জে অবস্থানরত এই তিন পদবীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান গ্রহণ করেন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ক্লার্ক শফিউল বাসার, জেসিও ফাউন্ডেশন এর নামে। ক্লার্ক শফিউল বাশার এর অভিনব এই কৌশল, তিনটি পদবীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্য ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল, যাহার ফলশ্রুতিতে অনুদান সংগ্রহ  সহজতর হয়েছে বলে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। গ্রামেগঞ্জে অবস্থানরত সদস্যগণ ঢাকায় একটু আশ্রয় পাবে এই আশায় ব্যাপকভাবে অনুদান প্রদান করেছেন। কৌশলী ক্লার্ক শফিউল বাশার অত্যান্ত চালাক প্রকৃতির মানুষ তাহার এই অনৈতিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংগঠনে কোন অবসরপ্রাপ্ত সম্মানিত লেফটেন্যান্ট,  সম্মানিত ক্যাপ্টেন ও সার্জেন্ট তদনিম্ন সদস্য  সাহেবদের নিবেন না। সংগঠনের যে সকল সদস্য পদত্যাগ করেছেন সকলেই অভিযোগ করেছেন শফিউল বাশার নিজে কেরানি বিধায় সংগঠনের আরো কয়েকজন কেরানীকে নিয়ে একটি শক্তিশালী গ্রুপ  তৈরি করে সকলের সাথে প্রতারণা করেছেন।   জেসিও ফাউন্ডেশন এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল  আবদুল হক মহোদয় কে দিয়ে সংগঠন উদ্বোধন করে, অনুদানের মহা উৎসব করেছেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ক্লার্ক শফিউল বাশার। গণহারে পদত্যাগ পত্রে সকল সদস্য তাদের অনুদানের টাকা ফেরত চেয়েছেন। অনুদানের টাকার হদিস ক্লার্ক শফিউল এবং আর দুই এক জন ক্লার্ক ছাড়া কেও জানে না।

অনেকেই অভিযোগ করেছেন ক্লার্ক শফিউল বাশার অনুদানের সমস্ত টাকা তসরুপ করেছেন, পারিবারিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে। সিনিয়র ওয়ারেন্ট  অফিসার ক্লার্ক শফিউল বাশার সশস্ত্র বাহিনীর এই তিন পদবীর সদস্যদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তাদের জন্য সকল ক্ষেত্রে আলাদা সুযোগ সুবিধা আদায় করবেন, সশস্ত্র বাহিনী এবং বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে। এই তিন পদবীর সদস্যদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা, সিএমএইচ এ আলাদা বিল্ডিং, আলাদা রেস্ট হাউস,  আলাদা বিল্ডিংয়ে  ঔষধ বিতরণ কেন্দ্র, আলাদা পেনশন ব্যবস্থা, আলাদা রেশনিং ব্যবস্থা ইত্যাদি। পদত্যাগ কারি অনেক সদস্য অভিযোগ করেছেন ইতিপূর্বে ডেসটিনি, ব্রাইট ফিউচার, মেজর জেনারেল জালাল সাহেবের জালাল ব্যাংক ইত্যাদি সংস্থাগুলো যে ধরনের দুর্নীতি করেছে, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ক্লার্ক শফিউল বাশার এর অভিনব কৌশলের দুর্নীতি তাদের কেউ হার মানিয়েছে। সিনিয়র সহ-সভাপতি, সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার হারেস, মহাসচিব সিনিয়র  ওয়ারেন্ট  অফিসার জিল্লুর, সাংগঠনিক সম্পাদক সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসের মাহাতাব প্রতিবেদকের কাছে উল্লেখ করেন প্রতারক ক্লার্ক শফিউল বাশার ইতিপূর্বে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে ২০২৪ সালে ঢাকা ১৭ আসনে মোটা অংকের টাকার বিনিময় ড্রামি প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল বিএনপি'র প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।  ভুক্তভোগী সদস্যগণ প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যাহাতে এই ক্লার্ক  শফিউল বাসার এর অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনা হয়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ইডি