নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী মডেল ইকতেদায়ী মাদ্রাসার নির্মাণকাজে অনিয়ম ও স্থবিরতা: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা!

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী মডেল ইকতেদায়ী মাদ্রাসার নির্মাণকাজে অনিয়ম ও স্থবিরতা: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা!
ছবিঃ এম হাবিবুর রহমান রনি

দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পেটান আলী পাড়ায় অবস্থিত বাইশারী মডেল ইকতেদায়ী মাদ্রাসার ভবন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে তিনতলা ফাউন্ডেশনের এই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই কাজটি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ মাটি পরীক্ষা ও পাইলিং ছাড়াই কাজ: কোনো ধরনের যথাযথ মাটি পরীক্ষা এবং নিয়ম অনুযায়ী পাইলিং ছাড়াই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, নির্মাণকাজে কংকর, বালু, ইট এবং মরিচাযুক্ত বাংলা রডসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো ভবন, পাঠদান চলছে মানুষের বাড়িতে ও মসজিদের বারান্দায়। মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল হামিদ ও ছৌয়দ নুর হেলালী জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তাদের পুরোনো টিনশেড ভবনটি আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে বাধ্য হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কখনো মসজিদের বারান্দায়, আবার কখনো স্থানীয় কোনো বাড়িতে গাদাগাদি করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক পক্ষের দাবি অনুযায়ী, মাদ্রাসায় নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের একাংশের দাবি, বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ জনের বেশি নয়। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এবং বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্পের ঠিকাদার মো. ইয়াসিন পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, এটি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প, কাজের বিভিন্ন ধাপে আমি একবারও যাইনি। পেটান আলী পাড়ার এই মাদ্রাসার ভবন সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানি না। আমার পার্টনার আবদুল রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি বলতে পারবেন। ঠিকাদারের এমন দায়সারা বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা মসজিদের বারান্দা ও মানুষের বাড়িতে হওয়ায় তাদের ভোগান্তির বিষয়টি এবং ভবনের অনিয়মের বিষয়ে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। অন্যদিকে, প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি এবং ভবনের অনিয়মের বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এলাকাববাসীর দাবি,পাহাড়ের এই দুর্গম এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাজীবন সুরক্ষায় দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণকাজের অনিয়ম দূর করে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করে নিরাপদ ও উপযুক্ত শিক্ষাবশে পাঠদান নিশ্চিত করে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি