কুমিল্লার লাকসামে টাকা লেনদেন বিরোধ: সোহান হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
টাকা-পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার লাকসামে সাইফুল ইসলাম সোহান নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে মো. মিজানুর রহমান হাজারী (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত)-এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির বাসিন্দা এবং মৃত আলী হোসেনের ছেলে।
রায়ের মূল বিষয়সমূহ:
প্রধান দণ্ড: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
অর্থদণ্ড: ৩০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড।
খালাস: মামলার অপর আসামি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
উপস্থিতি: রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত উভয় আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ:
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল দুপুরে টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানের সঙ্গে মিজানুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। আহত সোহানকে প্রথমে মুজাফফরগঞ্জ হেলথ কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ১৮ মে রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
আইনি প্রক্রিয়া:
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ