কুমিল্লার দেবিদ্বারে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড: জামিনে বেরিয়ে বাড়ির মালিককে কেটে টুকরো টুকরো!

কুমিল্লার দেবিদ্বারে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড: জামিনে বেরিয়ে বাড়ির মালিককে কেটে টুকরো টুকরো!
ছবিঃ সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সতর্কতা: সংবাদটিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক বিবরণ রয়েছে। ​নরপিশাচদের রক্তপিপাসা থামেনি: জামিনের অপব্যবহারের ভয়ংকর রূপ ​আইন ও বিচার ব্যবস্থার ফাঁক গলে বেরিয়ে এসে কতটা পশুবৃত্তিমূলক আচরণ মানুষ করতে পারে, তার এক নজিরবিহীন ও লোমহর্ষক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে কুমিল্লার দেবিদ্বারে। এর আগে শিশু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা অপরাধীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবর্তে ফের মেতে উঠেছে খুনের উল্লাসে। আগের সেই নৃশংসতার ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগেই তারা দেবিদ্বারে ঘটিয়েছে আরও এক বিভৎস হত্যাকাণ্ড। ​ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে ​কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর (মোহনা আবাসিক এলাকা) গ্রামের ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার বাসায় এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করায় গৃহবধূ ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং একমাত্র ছেলেও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এই সুযোগে ঘাতক লাইলী আক্তার ও তার স্বামী পরিচয়ে ওই বাড়ির একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ওঠে।

​গত শনিবার সকালে পরিবারের লোকজন ফরিদা ইয়াসমিনকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নিহতের ভাগ্নের সন্দেহ হলে তিনি বাড়ির পেছনে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি সন্দেহজনক প্যাকেট দেখতে পান। পলিথিন খুলতেই বেরিয়ে আসে খণ্ডিত ও রক্তাক্ত মৃতদেহ! মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ত্রাসের সৃষ্টি হয়। ​খুনের পর পৈশাচিক উল্লাস ও দেহ টুকরো করার রোমহর্ষক বিবরণ ​প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিত এই খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য ঘাতকরা যে পথ বেছে নেয় তা মানবসভ্যতাকে লজ্জা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট: ​হত্যাকাণ্ড ও লুণ্ঠন: পরিকল্পিতভাবে গৃহবধূ ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার পর তার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়া হয়। ​দেহাংশ খণ্ডিতকরণ: অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গৃহবধূর মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। ​পলিথিন বন্দি ও গুম: খণ্ডিত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে পলিথিনের প্যাকেটে ভরা হয়। এরপর অত্যন্ত সুকৌশলে সেই প্যাকেটগুলো ফেলে দেওয়া হয় বাড়ির পেছনের আড়ালে।

​অতীতের ছায়া ও জনরোষ ​স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লাইলী আক্তার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অতীতে পরকীয়ার জেরে ৫ বছরের শিশু ফাহিমা খাতুনকে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্তি পায়। জামিনে বের হয়ে ১০-১২ দিন আগে দেবিদ্বারের মোহনা আবাসিক এলাকার এই বাড়িটিতে ভাড়া ওঠে তারা। ​ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী এই হত্যাকাণ্ডে তার সহযোগীদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ​জামিনে মুক্ত হয়ে এমন নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো দেবিদ্বার জুড়ে এখন চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সাধারণ মানুষের দাবি—এই ধরনের রক্তপিপাসু ও কুখ্যাত খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ