নওগাঁয় ওএমএসের চাল-আটা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফিরছেন নিম্নআয়ের মানুষ

নওগাঁয় ওএমএসের চাল-আটা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফিরছেন নিম্নআয়ের মানুষ
ছবিঃ উজ্জ্বল কুমার সরকার

দৈনিক বিজয় নিউজ নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁয় খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা কিনতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক নিম্নআয়ের মানুষ পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ মানুষের নামে চাল-আটা কিনে পরে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নওগাঁর নামা শেরপুর, আরজি নওগাঁ এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্স নামের ওএমএস কেন্দ্রটিতে অনুসন্ধান চালিয়ে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।

কেন্দ্রটির সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, এটি খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ওএমএস কেন্দ্র। এর ডিলার মো. আসাদুজ্জামান, মোবাইল নম্বর ০১৮৪৯-৬১৩৯২৪। এখানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে জেলা খাদ্য বিভাগ, নওগাঁ। স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, ওএমএসের চাল ও আটা মূলত নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণের জন্য নির্ধারিত হলেও বাস্তবে সবাই তা সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি বা তাদের হয়ে ক্রেতা সেজে একাধিক পরিমাণ চাল-আটা সংগ্রহ করছেন। পরে এসব খাদ্যপণ্য অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত নিম্নআয়ের মানুষ ওএমএসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তথ্য সংগ্রহকালে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষও অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় চাল বা আটা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মীকে কেন্দ্রের ভেতরে বসে থাকতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বাইরে থেকে আসা ক্রেতাদের মধ্যে প্রকৃত উপকারভোগী কে এবং কারা অন্যের হয়ে খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করছেন—তা যথাযথভাবে তদারকি করছেন না। ফলে সরকারি ভর্তুকি মূল্যের খাদ্যপণ্য প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিবর্তে অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা খাদ্য বিভাগের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। সরকারের ওএমএস কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্নআয়ের ও সাধারণ মানুষের কাছে নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া। তাই প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন এবং কেউ অন্যের নামে বা প্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ উজ্জ্বল কুমার সরকার