কুমিল্লায় তীব্র গ্যাস সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি:
কুমিল্লাজুড়ে বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। রান্নার চুলা জ্বালাতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গৃহিণীরা। এই সংকটের আঁচ পড়েছে পরিবহন খাতেও। নগরী ও এর আশেপাশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের তীব্র প্রেশার সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে অনেক ফিলিং স্টেশনই এখন গাড়িগুলোকে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে স্টেশনের সামনে তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, আর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। বাসা-বাড়িতে রান্নার দুর্ভোগ চরমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লার অধিকাংশ আবাসিক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। নগরীর মনোহরপুর, কান্দিরপাড়, চর্থা, বাদুড়তলা, কুমিল্লা আদর্শ সদর ও এর সংলগ্ন বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চুলা জ্বালেই না বললেই চলে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারকে মাটির চুলা, ইলেকট্রিক হিটার বা সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আবাসিক সংকটের পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। গ্যাসের পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় অনেক স্টেশন কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সরবরাহ বন্ধ রাখছে। যে কয়েকটি স্টেশনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সিএনজি অটোরিক্সা, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য পরিবহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে দৈনিক আয় রোজগার কমে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন পরিবহন চালকরা। ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও দাবি ভুক্তভোগী নগরবাসীর অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গ্যাসের এই কৃত্রিম বা অঘোষিত সংকট তৈরি করা হচ্ছে। গ্যাসের এই করুণ দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত নগরবাসী ও পরিবহন শ্রমিক নেতারা। তাদের দাবি, অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে কুমিল্লায় জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ