কুমিল্লার বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়াসহ প্রতিটি থানায় মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ: মূল শেকড় উৎপাটনের জোরালো দাবি
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি:
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়াসহ প্রতিটি থানায় একযোগে মাদকবিরোধী র্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া কেবল সভা-সমাবেশে কি মাদকের আগ্রাসন থামানো সম্ভব? কঠোর হুঁশিয়ারি ও মাঠপর্যায়ের চিত্র সমাবেশগুলোতে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ভিন্ন চিত্র। অনেকের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েও অনেক সময় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল। মূল মাদক কারবারিরা বহাল তবিয়তে প্রকাশ্যে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও মাঝেমধ্যে দু-একজন খুচরা মাদকসেবী বা ছোটখাটো বিক্রেতাকে ধরে দায়সারা হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি অনেকটা "শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেওয়ার মতো" পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে, যেখানে তথ্য ফাঁসের শঙ্কাও থেকে যায়।
শুধু লোক দেখানো নয়, চাই শিকড় উপড়ে ফেলার অভিযান মাদকবিরোধী র্যালি, মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক সভাগুলো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, কেবল প্রতীকী কর্মসূচি বা খুচরা সেবীদের ধরে মাদকের ভয়াবহতা কমানো যাবে না। মাদক নির্মূল করতে হলে এর পুরো নেটওয়ার্ক বা শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। জনসাধারণের জোরালো দাবি, পুলিশ প্রশাসনকে এখন আরও কঠোর ও সাহসী ভূমিকা নিয়ে মূল মাদকসম্রাট ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্যের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যদি সরাসরি পাইকারি মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা যায়, তবেই কুমিল্লা জেলাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ