বাংলাদেশ এখন তিনটা প্লাটফর্মে বিভক্ত হয়ে পড়েছে? পরিত্রাণের চাবিকাঠি জনগনের হাতে! (দ্বিতীয় পর্ব)
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবনা প্রতিনিধিঃ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থক ভোটারদের কথা-বার্তা বক্তব্য নেই বললেই চলে। তারা নিশ্চুপ থেকে হুমকি-ধামকি খাচ্ছে, চাঁদা জরিমানা দিচ্ছে আর আশায় আশায় বুক বাঁধছে কিছু একটা হবে এই প্রত্যাশায়। আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার সমর্থকদের প্রথম দিকে আত্মগ্লানি ছিলো কিন্তু দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার মতই এখন তাদের মনের মধ্যে ঘৃনা বোধ পাপবোধ বিদূরিত হয়ে যাচ্ছে। নির্বিচারে গন গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা খাওয়া, মামলা বানিজ্য, গ্রেফতার বানিজ্যসহ চাঁদা বাজি, সালিসি বৈঠকের নামে জরিমানা বানিজ্য বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় অনুশোচনা, আত্মগ্লানি থেকে সরে যাচ্ছে লোকে। বিএনপির মত বড় রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থক ক্ষেত্র বিশেষে কিছু নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গও এহেন অপকর্মের সাথে লিপ্ত আছে বা ছিলো বলে অনেক স্থানের খবরে জানা যায়। আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার সমর্থকেরা অবিচল ও একাট্টা রয়েছে দলের নিরীহ নেতা-কর্মীদের উপর আরোপিত মিথ্যা, হয়রানি মুলক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মামলা প্রদানের জন্য। প্রকাশ্যে না দেখা গেলেও ভোটের মাঠে ঠিকই তাদের পারসেন্টেস বৃদ্ধি করবে।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দল সমূহ পাঁচ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনগন তথা সাধারণ নাগরিকদের সাথে ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে মন জয় করার আন্তরিক হোক আর লৌকিক হোক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এমনকি এখনও চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দলের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপে নেতা কর্মীরা বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে মব সৃষ্টিকারীদেরকেও আমরা তাদের দলের অনুসারী বললেও সহজে প্রমান সাপেক্ষ নয়। সামনে সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে দুইটা প্লাটফর্মে নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল গুলো নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে। পশ্চিমা বিশ্ব তাদের মতামত ব্যক্ত করে (কার্যক্রম স্থগিত থাকা ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ দল) আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারে। যদি এমনটা হয় তাহলে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঠে ত্রিমুখী ভোট যুদ্ধ হতে পারে সন্দেহ নেই তবে নির্বাচন যদি অন্তরে অন্তরে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দল হলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। মৌলিক ভাবে রাজনৈতিক চরিত্র বিবেচনায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের প্রতি কট্টর পন্থা সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী দল। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এক স্রোতে চললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দল দুই মেরুতে অবস্থান করছে রাজনৈতিক কৌশলের কারনে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তিন দলের ভোটই রিজার্ভ থাকে বিগত দিনগুলোতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত মুক্ত বাংলাদেশ সকলের কাম্য দলমত নির্বিশেষে! রাজনৈতিক উদারতাও মনমানসিকতা না থাকলে দেশ ও দেশের জনগন ভালো থাকবেনা, থাকতে পারবেনা। হয়তো সেখানে কি আওয়ামী লীগ, কি বিএনপি,কি জামায়াতে ইসলামী? দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশের নিরীহ সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক জনতাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে নচেৎ গৃহযুদ্ধের দামামা বেজে উঠতে সময় ও ঋতুচক্র বসে থাকবেনা মেহমান রুপে! এ ছাড়াও বহিঃশত্রুর কুদৃষ্টি দানবের আগ্রাসী রুপে চুয়ান্ন বছর ধরেই আছে! অতএব, নুন্যতম দেশপ্রেম দিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ গ্রহন করা সচেতন নাগরিকদের কর্তব্য......!
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এস এম এম আকাশ