বিধবার ১৪ শতাংশ জমি গিলে খাচ্ছে দখলদাররা
দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধি:
পাবনা সদর উপজেলার ভজেন্দ্রপুর গ্রামে হাসনাহেনা (৭৫) নামের এক বিধবার ১৪ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে টিনের ঘর তুলে রেখেছে নিকটাত্মীয়রা। ভুক্তভোগী হাসনাহেনা আদালতের রায় ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন নিজের পক্ষে পাওয়া সত্ত্বেও নিজ জমি উদ্ধার করতে পারছেন না। তিনি জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করতে পাবনা সদর থানায় লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীর পারিবারিক ও নথিসূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৪ জানুয়ারি ৩৯৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে পাবনা সদর উপজেলার আরএস ২৭৩ নম্বর দাগের ৪৭৯ নম্বর খতিয়ানের ১৪ শতক জমি কিনেছিলেন হাসনাহেনার মরহুম স্বামী আব্দুল গফুর বাদশা। পরবর্তীতে পাবনা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ৫৪৩১/২০১১-১২ নম্বর নামজারি কেসের মাধ্যমে জমি খারিজ করে ভোগদখল করে আসছিলেন সে সম্পত্তি। প্রায় তিন বছর আগে হাসনাহেনার স্বামী মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর এবং কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় চার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বিধবা বাড়িতে একেই বসবাস করেন। এরই মধ্যে তিনি নিজেও স্ট্রোক করেছেন। তার একাকীত্ব এবংশারীরিক অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে তার নিকটাত্মীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মূল্যবান জমিটি দখলের পায়তারা শুরু করে। এরই ধারাহিকতায় গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জবরদখলকারীরা অবৈধভাবে তার জমিতে টিনের ঘর উত্তোলন করে জবর দখল পাকাপোক্ত করে।
অভিযুক্ত জবরদখলকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভজেন্দ্রপুর এলাকার শহীদ আলী , তাসলি খাতুন ,ছয়েদ আলী, আব্দুল গাফফার, আলেপ প্রাং এবং শান্ত হোসেন। জমি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর অসহায় বিধবা হাসনাহেনা আদালতের আশ্রয় নেন। তিনি পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৫ ধারায় পিটিশন দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি সরজমিন তদন্তের জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে নির্দেশ দেন। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সরজমিন তদন্ত শেষে গত ১৮ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে জবরদখলকারীরা অন্যায়ভাবে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করেছেন।
এদিকে জবরদখলকারীরা ৫৬০ ও ৫৬৬ নম্বর খারিজ খতিয়ান দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। তবে তা পাবনা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে গত বছরের ১২ অক্টোবর বাতিল করা হয়েছিল। ফলে ভূমি অফিসের প্রতিবেদনেও জবরদখলকারেীদের দাবিকে বেআইনি ও অসংগত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিধবা হাসনাহেনার পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং আইনগতভাবে নালিশি জমি জবরদখলমুক্ত করার প্রসিডিং চূড়ান্ত করেন। কিন্তু আদালতের এই স্পষ্ট রায় ও নির্দেশনার পরও জবরদখলকারীরা তাদের ওঠানো ঘর অপসারণ করেনি।
বিধবা হাসনাহেনা জানান, তিনি একজন অসহায় ও অসুস্থ নারী। অথচ তাকে এরই মধ্যে তার বাড়িতে এসে জবরদখলকারীরা কয়েক দফায় হুমকি প্রদান করেছে। তিনি যেন আইন আদালত বা থানা পুলিশে না যান। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান। এদিকে গত ১৮ জুলাই দখলদারদের উচ্ছেদ করে নিজ জমি ফেরত পাওয়ার আশায় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর আবেদন জানান হাসনাহেনা। কিন্তু আবেদন জানানোর পরও পুলিশ উচ্ছেদের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে তার স্বামীর জমিতে যেতে পারছেন না এই অসুস্থ বিধবা নারী।
অভিযুক্ত শহীদ আলী, তাসলি খাতুনসহ অন্যরা জানান, তারা কয়েক শতাংশ জমি পাবেন। তারা তাদের জমিতে ঘর তুলেছেন। ওই জমি তারা খারিজও করেছেন বলে দাবি করেন। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি আবেদনের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন। পুলিশের কার্যপরিধির মধ্যে যতটুকু সম্ভব তিনি তা করবেন বলে জানান।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম এ খালেক খান