রাজশাহীতে জমি রেজিস্ট্রির কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা নেওয়ার পর জমি রেজিস্ট্রি না করে আত্মগোপনের অভিযোগ উঠেছে মোসা. নাসরিন বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসা. আরিফা খাতুন রাজশাহীর বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন বলে জানা গেছে। মামলার বাদী মোসা. আরিফা খাতুনের দাবি, জমি ক্রয়ের জন্য তিনি মোসা. নাসরিন বেগমকে কয়েক দফায় টাকা প্রদান করেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৩ জুন চেকের মাধ্যমে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একই দিনে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৭ জুন অভিযুক্তের ব্যবহৃত একটি মোবাইল নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে আরও ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। বাদিনীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এসব লেনদেনে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
বাদী আরও দাবি করেন, টাকা নেওয়ার পর নাসরিন বেগম জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে তিনি জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন আরিফা খাতুন। এ ঘটনায় বাদী দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর সি.আর-১২৫/২০২৫ (চন্দ্রিমা)। বাদিনীর দাবি, মামলাটিতে অভিযুক্ত নাসরিন বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বতন্ত্র আদালত নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাদী আরিফা খাতুন অভিযোগ করেন, চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। তার দাবি, তৎকালীন থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে হুমকি দিয়েছিলেন। এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আরিফা খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর প্রায় দুই বছর ধরে নাসরিন বেগমের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। তার ভাই, মা, ছেলে ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তীতে আরিফা খাতুন নাসরিন বেগমের বাড়িতে গেলে তার ছেলে যোগাযোগ করেন এবং নাসরিন বেগম পালিয়ে আছেন বলে জানতে পারেন বলে জানান। এ সময় নাসরিন বেগম ফোনে তার কাছে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন বাদী। বাদী আরও জানান, পরে নাসরিন বেগমের মামা মো. রাকিবুল ও প্রতিবেশী মো. ফেলু তার কাছে আসেন। তারা বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েক দিনের সময় নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোসা. আরিফা খাতুন নিজেকে একজন বিধবা নারী দাবি করে বলেন, তার কোনো ছেলে সন্তান নেই, একটি মেয়ে রয়েছে। জমির জন্য দেওয়া টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এমনকি গত পাঁচ মাস ধরে বাড়িভাড়া দিতে না পারায় তাকে ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে তিনি প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করছেন। একই সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার ও তার টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বাদী আরিফা খাতুন বলেন, “আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে জমি কেনার চেষ্টা করেছিলাম। টাকা দেওয়ার পর জমি রেজিস্ট্রি হয়নি, আবার টাকাও ফেরত পাচ্ছি না। আমি বর্তমানে খুব অসহায় অবস্থায় আছি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন