মুরাদনগরে মর্মান্তিক পরিণতি: যৌতুকের বলি গৃহবধূ আয়েশা, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাপাত্তা!

মুরাদনগরে মর্মান্তিক পরিণতি: যৌতুকের বলি গৃহবধূ আয়েশা, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাপাত্তা!
ছবি : সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় স্বামীর বাড়ি থেকে আয়েশা আক্তার (৩২) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে মরদেহ উঠানে ফেলে পালিয়ে গেছে পাষণ্ড স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। ​নির্যাতনের ১২ বছর ও শেষ পরিণতি ​নিহত আয়েশা আক্তার জেলার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের গাংটিয়ারা গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সি ও সাহানাজ বেগমের কন্যা। প্রায় ১২ বছর আগে মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর দাগার বাড়ি গ্রামের মৃত শহিদের ছেলে আবদুল ওহাবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ​পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে আয়েশার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত স্বামী আবদুল ওহাব। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়িতে পাঠাতে পরিবার রাজি না হলেও, আর নির্যাতন করবে না মর্মে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ওহাব তাকে জোর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। ​৫ লাখ টাকার জন্য প্রাণনাশের হুমকি ​নিহতের ভাইয়ের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আয়েশার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যা করে মাছের প্রজেক্টে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

​ঘটনার দিন সকালে খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে দেখতে পান, বাড়ির উঠানে পড়ে রয়েছে আয়েশার নিথর মরদেহ। অথচ বসতঘর ফাঁকা এবং স্বামী ওহাবসহ পরিবারের সবাই পলাতক। একাধিকবার স্বামীর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি; উল্টো একটি শিশু ফোন ধরে জানায় বাড়িতে কেউ নেই। ​পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ ​খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ​এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গৃহবধূ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে। এদিকে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশ থানায় হত্যা মামলা গ্রহণ করতে টালবাহানা করছে। এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ