নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের মাতম!

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের মাতম!
ছবিঃ এম হাবিবুর রহমান রনি

দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদুঅংপাড়া এলাকায় একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় একটি ক্যায়াংঘরের (বৌদ্ধ মন্দির) সিঁড়ির পাশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গলা কাটা অবস্থায় জাফর আলম বাবুল (৫৫) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল ও ক্যায়াংঘরের সিঁড়িতে প্রচুর রক্তের দাগ রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিহার রক্ষণাবেক্ষণ কারী সাবেক মেম্বার ধুংচাই বিষয়টি চেয়ারম্যানকে মুঠোফোন এ জানান।চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শওকত জামিলের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ক্যায়াংঘরটিতে ভেতর থেকে তালা দেওয়া অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে অংখ্যচিং মার্মা নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। নিহত জাফর আলম বাবুল মৃত ওসমানের ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম ছাড়াও তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন ও মা-বাবা সহ পুরো পরিবারটি কান্নায় ভেঙে পড়েছে। নিহতের ভাই মো. সিদ্দিক, শাহ আলম, কালু হাজী ও মোহাম্মদ সৈয়দ জানান, "আমার ভাইয়ের সাথে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। কেন এমন নির্মমভাবে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো? আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি