পুলিশ সুপারের সরাসরি নেতৃত্বে কুমিল্লায় নজিরবিহীন সুনামি: ১৮ থানায় অভিযানে ৩৬৩ গ্যাংস্টার গ্রেপ্তার, জালে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং রতন

পুলিশ সুপারের সরাসরি নেতৃত্বে কুমিল্লায় নজিরবিহীন সুনামি: ১৮ থানায় অভিযানে ৩৬৩ গ্যাংস্টার গ্রেপ্তার, জালে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং রতন
ছবি : সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কিশোর অপরাধের বিষাক্ত থাবায় যখন জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, তখন অপরাধের শেকড় এক টানে উপড়ে ফেলতে খোদ পুলিশ সুপারের সরাসরি ও মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বে কুমিল্লাজুড়ে চালানো হয়েছে এক ভয়ংকর ও সাঁড়াশি অভিযান। গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা নামার পর থেকেই গোটা জেলার ১৮টি থানার আনাচে-কানাচে ঘিরে ফেলে পুলিশ ও ডিবি। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই ঝটিকা ও আতঙ্ক জাগানিয়া অভিযানে অপরাধ জগতের সাথে জড়িত মোট ৩৬৩ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম নিজে মাঠে থেকে যেভাবে এই অভিযানের কমান্ড ও নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাতে একপ্রকার সুনামি বয়ে গেছে অপরাধীদের মাঝে। ​রাজনৈতিক আড়ালে ত্রাসের রাজত্ব ও ডিবির জালে কিশোর গ্যাং রতন এবারের এই ভয়ংকর অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’-এর মূলহোতা এবং বহু অপরাধের নায়ক কিশোর গ্যাং রতন-এর গ্রেপ্তার। কিছুদিন আগে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি ও দাপট নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; স্বয়ং পুলিশ সুপারের নির্দেশে কড়া গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে গত শুক্রবার রাতে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়তে হয়। অন্ধকার দুনিয়ায় এক আতঙ্কের নাম এই কিশোর গ্যাং রতন, যার ভয়ে তটস্থ থাকত সাধারণ মানুষ।

​রক্তাক্ত ইতিহাস ও যত অপরাধের পাহাড় পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। কুমিল্লার ধর্মসাগর পাড়, রানীর কুঠি, তালপুকুর পাড় এবং ঝাউতলার অলিগলিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এই কিশোর গ্যাং রতন ও তার গ্যাং। আধিপত্য বিস্তার, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা আর চাঁদাবাজি ছিল তাদের নিত্যদিনের পেশা। বিশেষ করে ২০২২ সালে নগরীর মিশনারি স্কুলের সামনে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারানো তরুণ শাহাদাত হত্যা মামলার মূল এজাহারভুক্ত আসামি ছিল এই কিশোর গ্যাং রতন। তার বিরুদ্ধে একে একে ঝুলছে হত্যা ও অস্ত্রবাজিসহ একাধিক ভয়ঙ্কর মামলার ভারী বোঝা। ​প্রশাসনের কঠোর হুশিয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আটককৃত এই ৩৬৩ জনের অপরাধের মাত্রা ও সম্পৃক্ততা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ঝালাই করা হচ্ছে। বিন্দুমাত্র অপরাধের প্রমাণ মিললে তাদের কারো জন্যই কোনো ছাড় বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না। একই সাথে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই অভিযানে কোনো সাধারণ বা নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন। অপরাধের এই কালো সাম্রাজ্য চিরতরে গুঁড়িয়ে দিয়ে কুমিল্লাকে একটি নিরাপদ ও ভয়শূন্য জনপদে রূপ দিতে জেলা পুলিশ এখন কঠোর অবস্থানে অনড়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ