মনোহরদীতে ষড়যন্ত্রের শিকার ডোমনমারা কমিউনিটি ক্লিনিক

মনোহরদীতে ষড়যন্ত্রের শিকার  ডোমনমারা কমিউনিটি ক্লিনিক
ছবিঃ মোঃ এমরুল ইসলাম

দৈনিক বিজয় নিউজ মনোহরদী নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

মনোহরদীতে কমিউনিটি ক্লিনিকের ঔষধ ক্লিনিকে না রেখে ক্লিনিকের সিএইচসিপি রোজী আক্তারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয় পাশের মোস্তফার বাড়ীতে ।  খিদিরপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ডোমনমারা গ্রামে অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের মোস্তফার বাড়ী থেকে ৪ কার্টন বিক্রয় নিষিদ্ধ ঔষধ পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা এসব ঔষধের মধ্যে রয়েছে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন বড়ি,খাবার স্যালাইন,ভিটামিন, ক্যালসিয়াম,অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট। বুধবার (২২ মে) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খিদিরপুর ইউনিয়নের ডোমনমারা গ্রামের ক্লিনিক সংলগ্ন মোস্তফার বাড়ি থেকে এসব ঔষধ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে খিদিরপুর ইউ.পি চেয়ারম্যান কাউসার রশিদ বিপ্লব ওই বাড়িতে গিয়ে চার কার্টন ঔষধ দেখতে পান।

পরে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা ঔষধের কার্টনগুলো ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডোমনমারা কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রোজি আক্তার ক্লিনিকের ঔষধ তার নিজ বাড়িতে মজুদ করে তা বাইরের সাধারণ লোকজনের নিকট বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিনামূল্যের ঔষধ জনসাধারণের কাছে বিতরণ না করে বিক্রি করে আসছেন বলে স্থানীয় কিছু লোকজনের অভিযোগ। আবার বেশীরভাগ মানুষ বলেন যে, ঔষধ প্রতি আগে ২ টাকা করে নেয়া হতো আর এখন ৫ টাকা করে নেয়া হয় তবে যারা গরীব তাদের বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

সিএইচসিপি রোজি আক্তার বলেন,ঔষধগুলো বিক্রির জন্য সেখানে রাখা হয়নি।বৃষ্টির দিন গাড়ি চালক হাসপাতাল থেকে ঔষধ এনে ওই বাড়িতে রেখেছেন। সময় না পাওয়ায় ও চুরের উপদ্রব থাকায় নিরাপত্তার জন্য সেগুলো ক্লিনিকে আনা হয়নি। খিদিরপুর ইউ.পি চেয়ারম্যান কাউসার রশিদ বিপ্লব বলেন,স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ক্লিনিক সংলগ্ন মোস্তফার বাড়ী থেকে  ৪ কার্টন ঔষধ উদ্ধার করা হয়েছে।  পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ইউপি কার্যালয়ে এসব ঔষধ রাখা হয়। এ বিষয়ে ডোমনমারা কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি ও খিদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সোলেমান মৃধা বলেন,ঔষধ নিয়ে আসার সময় বৃষ্টি থাকায় গাড়ী চালক সে বাড়ীতে ঔষধ রেখে যাওয়ার আগে ক্লিনিকের দায়িত্বরত সিএইচসিপি রোজি আক্তার আমাকে জানালে ক্লিনিকে নৈশ প্রহরী না থাকায় ঔষধ চুরি হয়ে যাওয়ার আশংকায় আমার সিদ্ধান্তেই মোস্তফার বাড়ীতে রাখা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান মাহমুদ বলেন,কমিউনিটি ক্লিনিকে কোন প্রকার নৈশপ্রহরী না থাকায় নিরাপত্তার অভাবে তিনি ঔষধগুলো বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন। ঔষধ বিক্রির কোন প্রকার প্রমান পাওয়া গেলে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাছিবা খান বলেন, খবর পেয়ে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবহিত করছি। এ বিষয়ে কতৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ এমরুল ইসলাম