অবৈধ মজুদদাররা পার পেয়ে যাচ্ছে

শুধু জরিমানা করে দেওয়া হচ্ছে দায়সারা শাস্তি

অবৈধ মজুদদাররা পার পেয়ে যাচ্ছে
ছবি: রাজধানী এলাকায়

জাতীয় ভোক্তা অধিকার আইন গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৬৬ লিটার অবৈধভাবে মজুদকৃত সয়াবিন তৈল উদ্ধার করে। ওই সময় ১১৪ টি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ লাখ টাকার বেশি জরিমানাও করা হয়। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, সয়াবিন তৈল অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ ওঠার পরে তার এই অভিযান চালান।অবৈধভাবে তৈল মুজুদের দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়িকদের করা হয় জরিমানা। কিন্তু কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২ ধারায় মজুদের সংজ্ঞা উল্লেখ রয়েছে।  এতে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি কর্তৃক যে কোন সময়ে মজুদ বা মজুদ রাখার অনুমতিপ্রাপ্ত জিনিসের সর্বাধিক পরিমাণের চেয়ে বেশি কিছু মজুদ করা বা সংরক্ষণ করা। একই ধারায় কালো বাজারে দেনদেন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বাণিজ্যের উদ্দেশ্য কোন কিছু বিক্রি করা। এই আইনটি সয়াবিন তেলের অবৈধ মজুদের ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রযোজ্য বলে মনে করেন ।

অন্যদিকে ২০০৯ সালেল ভোক্তা অধিকার আইনে কোন পণ্যগুদামজাত করার অপরাধে কারখানা, দোকান, গুদাম সাময়িক বন্ধ করার, পণ্য যথাযথভাবে বিক্রি ও সরবরাহ না করলে সর্বোচ্চ এক বছরের শাস্তি  ও জরিমানার বিধান রয়েছে। এই আইনে মজুদদার ও কালোবাজারির বিষয়ে কিছুই বলা হয় নি।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এক আইনজীবীর কাছে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুদদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে। তবে এই আইনের প্রয়োগ এক্ষেত্রে একেবারেই দেখা যাচ্ছে না । অভিযানে গিয়ে শুধু জরিমানা করা হচ্ছে দায়সারাভাবে। তাই আর বিলম্বের সুযোগ নেই। এখন থেকেই মজুদদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইরে ব্যবহার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ছদ্মপদী