ড্রাগন বানিজ্যিক ভাবে চাষ করে সফললতা পেয়েছে শিবগঞ্জের তরুণ উদোক্তা মোঃ সোহেল রানা।

ড্রাগন বানিজ্যিক ভাবে চাষ করে সফললতা পেয়েছে  শিবগঞ্জের তরুণ উদোক্তা মোঃ সোহেল রানা।
ছবি: মোঃ সাহান আলী

দৈনিক বিজয় নিউজ  শিবগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ

ড্রাগন বানিজ্যিক ভাবে চাষ করে সফল লতা পেয়েছে।  বগুড়ার শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষ্টপুর গ্রামের মুন্নু মিয়ার পুত্র তরুণ উদোক্তা সোহেল রানা।  তিনি ৯০ শতাংশ জমিতে বিদেশি ড্রাগন ফল চাষাবাদ করে সফলতা পেয়েছেন। ১ বছরে বাগানে প্রথম ১ধাপে কাঙ্খিত ফল পেয়ে বিক্রিও করেছেন। সব মিলিয়ে সাড়ে ১১ লাখ টাকা খরচ হলেও, এখন স্বপ্ন দেখছেন অর্ধকোটি টাকা আয়ের। তিনি ঝিনাইদহ কোট চাঁদপুর থানা থেকে উন্নতজাতের ড্রাগনের চারা সংগ্রহ করেছেন। তারপর এগুলো রোপণ করে লোহার খুঁটির মাধ্যমে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে তার খরচ হয় প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা। এখন ১বছর বয়সী সব-ক’টি চারায় ফল হয়েছে। সোহেল রানার প্রত্যাশা আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরই তার বিনিয়োগ করা টাকা উঠে আসবে। এবং অধিক লাভ হবে।


ড্রাগন চাষি সোহেল রানা বলেন, নিজেকে একজন সফল উদোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেই বিদেশি জাতের ফল বাংলার মাঠিতে উৎপাদন করা আমার এ অপচেষ্টা। যেনো বিদেশ থেকে টাকা খরচে আমদানি করে এসব ফল দেশে না আনতে হয়। দেশের মাটিতেই সবকিছু করা সম্ভব এটাই প্রমান করতে চেয়েছি। প্রথম ইউটিউব দেখে ড্রগন বানিজ্যিক ভাবে চাষ করার উদ্যোগ নেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ড্রাগন চারা একবার রোপণ করলে প্রায় ২০ বছর ফল দেয়। প্রথম বারেই সল্প পরিসরে  অনেক ভালো ফলন হয়েছে। এখন ড্রগনের চারা ম্যাচুয়েট হয়েছে। প্রতিটি গাছেই ফল এসেছে  এবং অনেকটা লাভবানও হতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। এজন্য তিনি দেশের অনেক ড্রাগন চাষিদের পরামর্শ নেন। 


ড্রাগন প্রতি দিন বাজার জাত করছেন। সরকারি কোনো সহযোগিতা ছাড়াই সোহেল রানা নিজ মেধা ও উদ্যোগে ড্রাগন ফল চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন৷ ইতিমধ্যে ড্রাগন গাছে গাছে ফুল এসেছে। অনেক গাছে ড্রাগন লাল  হয়েছে। প্রতিদিন লাল টুকটুকে হয়ে উঠা ড্রাগন বিক্রি করছে। 

তরুণ উদোক্তা সোহেল রানা এই প্রতিবেদককে  বলেন, ড্রাগন অত্যন্ত লাভজনক ও পুষ্টিকর একটি ফসল। দেশে অন্যান্য ফসল চাষে সরকারের প্রণোদনা থাকলেও ড্রগন চাষে আমরা সরকারের কোনো প্রণোদনা পাই না। সরকারী ভাবে বা কোন এনজিও যদি পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে তাহলে তিনি বিদেশি ফলের বিপ্লব ঘটিয়ে  দেশেই ফলের চাহিদা মিটারে। এ পর্যন্ত তার বাগানে ১০টির অধিক বিদেশি জাতের ফলের চাষ হচ্ছে। বিষমুক্ত তরতাজা ড্রগন পেতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহবান জানিয়েছেন উদোক্তা।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ সাহান আলী