নাইক্ষ্যংছড়ির রোহিঙ্গা পরিবার এখন বাংলাদেশী নাগরিক!

নাইক্ষ্যংছড়ির  রোহিঙ্গা পরিবার এখন বাংলাদেশী নাগরিক!
ছবিঃ এম হাবিবুর রহমান রনি

দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদুল আলমের সহযোগিতায় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মিয়ানমারের ৩ জন রোহিঙ্গা ব্যক্তি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) হাতে পেয়েছে। মিয়ানমারের তিন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলার সচেতন মহল। এই বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চাকঢালা আমতলী মাঠ এলাকার বাসিন্দা আব্দু সালামের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম প্রতিকার চেয়ে এবং দূর্ণীতিপরায়ন ইউপি সদস্য ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন । নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের ২০ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখের পত্র ২৪৯৬১ নং এ দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমানে দায়িত্বরত ইউপি সদস্য চাকঢালা আমতলী মাঠ এলাকার আলী মিয়ার পুত্র ফরিদুল আলম (৪৮) নিজেকে বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকার অসহায় লোকজনকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে আসছিল। এছাড়া ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে একাধিক মিয়ানমারের (রোহিঙ্গা) নাগরিককে ভোটার করেছেন। সর্বশেষ এই ফরিদুল আলম মোটার অংকের অর্থের বিনিময়ে এক রোহিঙ্গা নারীকে নিজের বোন সাজিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) তৈরী করে দিয়েছেন।

জানা যায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম মিয়ানমারের নাগরিক মরিয়ম খাতুনকে ভোটার নিবন্ধন ফরমে নিজের বোন পরিচয় দিয়ে সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন। মরিয়ম খাতুনের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) নং ১৯৭২০৩১৭৩৭৬৩৫৩৯৬৩। পরবর্তীতে দূর্ণীতিপরায়ন এই ইউপি সদস্য মরিয়ম খাতুনের জাতীয় পরিচয় পত্র দাখিল করে তার ছেলে ও মেয়েকে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেন। মরিয়ম খাতুনের ছেলে ছৈয়দ আলম পিতা আব্দু সালামের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) নং - ৩৭৫০৫৯৬৭৪৮ এবং মরিয়ম খাতুনের মেয়ে মনোয়ারা বেগম পিতা আব্দু সালাম, স্বামী ফরিদ আলমের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) নং - ৮২৩৮৮৫৫২৭৭। অভিযোগে উল্লেখ,আভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাব কাটিঁয়ে মরিয়ম খাতুনসহ এই তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন। অভিযোগকারী প্রশাসনের কাছে উক্ত তিন রোহিঙ্গার জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) সমূহ জব্দ পূর্বক তদন্ত করে এই তিন রোহিঙ্গার নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তনের দাবী জানিয়েছেন। এবং অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবী জানিয়েছেন। এই বিষয়ে অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি স্ব-শরীরে হাজির হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার,নির্বাচন অফিসার সহ একাধিক দপ্তরে ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম ও এই তিন রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছি। আমি এই অভিযোগের প্রতিকার চাই। এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফরিদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি সদস্য হিসেবে যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব থাকে।

ভোটার নিবন্ধন করার দায়িত্ব থাকে, উপজেলার বিশেষ কমিটির। রোহিঙ্গাদের নাম কিভাবে যাচাই - বাছাই করলেন ; এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কাগজ পত্র ছিল, তাই করেছি। আমার ভূলও হতে পারে। এই বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন বলেন, এই বিষয়ে আমি সমপৃক্ত নই। আমার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এই তিন ব্যক্তিকে ভোটার করেছেন বলে জেনেছি। এই বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমাত জাহান ইতু বলেন, তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিককে সদর ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য কর্তৃক ভোটার করেছেন মর্মে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানা যায়,সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে রোহিঙ্গা নাগরিক মরিয়ম খাতুন ও তার ছেলে - মেয়ে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানান গুঞ্জন। জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রোহিঙ্গা নাগরিক মরিয়ম খাতুন ও তার ছেলে - মেয়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তনের দাবী জোরালো হচ্ছে। জানা যায়,মরিয়ম খাতুন নিজে এবং তার মেয়ে মনোয়ারা বেগম ও ছেলে ছৈয়দ আলম মিয়ানমারের তাদের আত্মীয়দের যোগসাজসে সীমান্তের মিয়ানমার কেন্দ্রিক ইয়াবা,গরু সহ সমস্ত অবৈধ ব‌্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদুল আলমের ছত্রছায়ায়। সীমান্তের এই অবৈধ ব্যবসায় আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম ।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি