ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও ছেলেকে জীবিত পেল না পরিবার, আটক ৩
দৈনিক বিজয় নিউজ ঠাকুরগাঁ প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মিলন হোসেন নামে এক কলেজশিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিল একটি চক্র। পরে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। তাদের চাওয়া মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা দিয়েও মিলনকে জীবিত পায়নি তার পরিবার। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ মার্চ) রাত ৩টার দিকে তিন অপহরণকারী গ্রেপ্তার ও মিলনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম। কলেজশিক্ষার্থী মিলন হোসেন দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁওয়ের চাপাপাড়া এলাকার পানজাব আলীর ছেলে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর বিট বাজার এলাকার মো. সেজান আলী, মাদারগঞ্জ আরাজী পাইকপাদপাড়ার মো. মুরাদ ও সদর সালন্দর ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামের রত্না আক্তার ইভা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজশিক্ষার্থী মিলনকে অপহরণ করে একটি চক্র। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিকের পেছনে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মিলন। ঘটনার দিন রাত ১টার সময় ভুক্তভোগীর পরিবারকে মুঠোফোনে অপহরণের বিষয়টি জানায় অপহরণকারীরা। প্রথমে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা চায় তারা। পরদিন দুপুরে তিন লাখ টাকা দিতে রাজি হয় মিলনের পরিবার। তবে পরে চক্রটি পাঁচ লাখ দাবি করে। পরদিন আরও বেড়ে ১০ লাখ হয় তা। তিন দিন পরে ১৫ লাখ টাকা চায় চক্রটি। সবশেষে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এ অপহরণকারী চক্র। গত ৯ মার্চ রাতে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা অপহরণকারী চক্রের কাছে বুঝিয়ে দেয় অপহৃত মিলনের বাবা পানজাব আলী। কিন্তু ধার-দেনা করে এত টাকা দিয়েও মিলনকে জীবিত পেল না পরিবারটি।
ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, বুধবার রাতে মিলনকে অপহরণে ঘটনায় আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে ও তাদের দেখানো মতে আমরা স্থানীয় স্বাক্ষীদের সামনে মরদেহ উদ্ধার করি। পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন ধরে এ বিষয়ে কাজ করছিলাম আমরা। কোনো ক্লু পাচ্ছিলাম না। গতকাল রাত ৩টায় প্রযুক্তির সহযোগিতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা স্বীকার করেছে যে, মিলনকে খুন করেছে ও তাদের দেখানো পথে ১ নম্বর আসামি সিজানের বসতবাড়ির পাশে অব্যবহৃত টয়লেটের স্লাবের ভেতর থেকে মাটি খুড়ে অপহৃত মিলনের মরদেহ উদ্ধার করি। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ নাজিমুল ইসলাম