চট্টগ্রামে থানা ঘেরাও ও মহাসড়ক অবরোধ করল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

চট্টগ্রামে থানা ঘেরাও ও মহাসড়ক অবরোধ করল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পুলিশের সাথে দুই দফা সংঘর্ষের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা বুধবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় থানা ঘেরাও করেন। তাঁরা থানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন, যার ফলে মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় । আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় পটিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছাত্রলীগের এক নেতাকে (রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দীপংকর তালুকদার) আটক করে থানায় নিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অস্বীকৃতি জানালে উত্তেজনা ছড়ায় ।

রাত সাড়ে ৯টা ও সাড়ে ১১টায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৯ জন আহত হন। আন্দোলনকারীদের পক্ষে ১৫ জন (যার মধ্যে ১১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে 8) এবং পুলিশের ৪ সদস্য আহত হওয়ার দাবি করা হয় । পুলিশের বক্তব্য, আন্দোলনকারীরা থানায় "মব সৃষ্টি করে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করার চেষ্টা করেছিল" ।

বুধবারের প্রতিবাদ:থানার সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। মুখপাত্র ফাতেমা খানম জানান, থানার ফটকে অবস্থান নেওয়ার সময় পুলিশ বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কিতে এক কর্মী আহত হন 25।

কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি অভিযোগ তোলেন, "পটিয়া থানার ওসির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। ওসির প্রত্যাহার দাবি আমাদের" ।এনসিপি নেতা আরিফ সোহেল ফেসবুকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন: "পটিয়া থানা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে"।

পটিয়া থানার ওসি আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূর বুধবার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি । চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শান্তু বলেন, "অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে" ।

মহাসড়ক অবরোধের কারণে ইন্দ্রপোল ও মডেল মসজিদ এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়, যা স্থানীয় যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়ায় 

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ